শিলিগুড়ির (Siliguri) মাটিগাড়ার (Matigara) নাবালক খুনের ঘটনায় অবশেষে স্বস্তি। পুলিশের জালে ধরা পড়ল মূল অভিযুক্ত রাজ পাসোয়ান(Raj paswan)। বুধবার রাজকে শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে (Siliguri Sub-Divisional Court) তোলাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় আদালত চত্বর।

মঙ্গলবার কাওয়াখালি (Kawakhali)এলাকা দিয়ে শহর ছাড়ার ফন্দি এঁটেছিল সে, কিন্তু তার আগেই পুলিশ তাকে পাকড়াও করে। অভিযুক্ত রাজকে বুধবার কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে আদালতে আনা হলে জনরোষ আছড়ে পড়ে। সাধারণ মানুষের দাবি একটাই— ‘খুনির ফাঁসি চাই’। পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে অভিযুক্তকে মারধর করার চেষ্টা করেন উত্তেজিত বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার খাতিরে তাকে এজলাসে তোলা যায়নি।

অভিযোগ ওঠে, একই কিশোরীকে পছন্দ করা নিয়ে শিমুলতলার বাসিন্দা দশম শ্রেণির ছাত্র শুভজিতের সঙ্গে ২৪ বছর বয়সী যুবক রাজ পাসোয়ানের বিবাদ দীর্ঘদিনের। মাসখানেক আগেও তাদের মধ্যে বড়সড় ঝামেলা হয়েছিল। তবে ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার। ১৫ বছরের কিশোর শুভজিৎ মোদককে (Subhajit modok)ফোন করে ডেকে নিয়ে যায় টোটো চালক রাজ পাসোয়ান। তারপর থেকেই আর বাড়ি ফেরেনি শুভজিৎ। ছেলের কোনো খোঁজ না পেয়ে ভেঙে পড়া পরিবার পুলিশের দ্বারস্থ হয়, এমনকি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে থানার সামনে বিক্ষোভও দেখান পরিজনরা। জনরোষ এবং ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তড়িঘড়ি অভিযানে নামে মাটিগাড়া থানার পুলিশ (Matigarar police station)।
আরও খবর: কয়লা পাচারে ধৃতদের মুখে বিজেপি নেতার নাম! বিস্ফোরক পোস্ট কুণালের

সোমবার গভীর রাতে পুলিশ শুকনা ফরেস্টের ভেতর থেকে শুভজিতের দেহ উদ্ধার করে। মূলত ত্রিকোণ প্রেমের জেরে সৃষ্ট বিবাদ থেকেই এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। মঙ্গলবার এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক নাবালককে আটক করে জুভেনাইল কোর্টে (Juvenile Court) পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু তখনও পলাতক ছিল রাজ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার কাওয়াখালি এলাকা থেকে পালানোর সময় রাজকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কোনো গভীর আক্রোশ বা পুরনো শত্রুতা থাকতে পারে। ইতিমধ্যেই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

–

–

–

–

–

–

