রাজনীতির ময়দান আর প্রশাসনিক ব্যস্ততার মাঝেও তিনি আদতে এক ঘরোয়া মেয়ে। যাঁর পৃথিবীর কেন্দ্রে ছিলেন কেবল মা। সোমবার এক সাক্ষাৎকারে ব্যক্তিগত জীবনের সেই অন্দরমহল খুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানালেন, মা গায়ত্রী দেবী তাঁকে যে যৎসামান্য টাকা হাতখরচ হিসেবে দিতেন, আজও তা অমূল্য সম্পদ হিসেবে আগলে রেখেছেন তিনি। তাঁর কাছে ওই টাকা কেবল মুদ্রা নয়, বরং মায়ের আশীর্বাদ।

মমতা জানান, তিনি যখনই বাড়ির বাইরে যেতেন, মা নিজের সাধ্যমতো তাঁর হাতে কিছু টাকা গুঁজে দিতেন। রাজ্যের মধ্যে কোথাও যাওয়ার থাকলে পাঁচ টাকা, ভিন রাজ্যে গেলে দশ টাকা। আর দিল্লি বা বিদেশের সফরের ক্ষেত্রে সেই বরাদ্দ বেড়ে দাঁড়াত একশো টাকায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মা বাইরে যাওয়ার সময় টাকা দিতেন। নিজের যতটা সাধ্য তার মধ্যে। রাজ্যের কোথাও গেলে ৫ টাকা, দেশের মধ্যে ১০ টাকা। বিদেশে বা দিল্লি গেলে ১০০ টাকা দিতেন’। সেই সব টাকা আজও পরম মমতায় কৌটোয় ভরে সাজিয়ে রেখেছেন তিনি। মমতার কথায়, আমার সব ভাই-বোনেদের কাছেই মায়ের দেওয়া এমন কিছু টাকা আছে। ওটা মায়ের আশীর্বাদ, মায়ের দান। আমার কাছে চিরকাল সযত্নে থাকবে।

মায়ের সঙ্গে তাঁর আত্মিক বন্ধনের কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, জীবনের সব লড়াইয়ে মা ছিলেন তাঁর প্রধান শক্তি। গায়ত্রী দেবী কখনও তাঁকে বকেননি। আজও ঘর থেকে বেরোনোর সময় মায়ের ছবির দিকে না তাকিয়ে এক পা-ও এগোন না তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, মা আমার কাছে হৃদয়ের সবচেয়ে বড় দেবতা। বেরোনোর সময় মায়ের মুখ না দেখে কোথাও বেরোতাম না। রাজনীতির ঊর্ধ্বে এক কন্যার এই আবেগঘন স্মৃতিচারণা এদিন অনেককেই আপ্লুত করেছে।

আরও পড়ুন- এরা কবে যাবে? মমতাকে প্রশ্ন জ্যোতি বসুর! সুভাষের সঙ্গে ‘রাজনৈতিক বৈঠক’

_

_

_

_

_

_
_

