এসআইআর আতঙ্কে জারি মৃত্যু মিছিল। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল হুগলির ডানকুনির এক প্রৌঢ়ের। পেশায় ঝালমুড়ি বিক্রেতা ওই প্রৌঢ়ের নাম শেখ আনোয়ার (৬৯)। পরিবারের অভিযোগ, ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় এবং দফায় দফায় শুনানির চাপে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন ৬৯ বছর বয়সি শেখ আনোয়ার। রবিবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর সোমবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডানকুনি এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, এই মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি দায়ী।

ডানকুনি পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শেখ আনোয়ার পেশায় ছিলেন সামান্য ঝালমুড়ি বিক্রেতা। পরিবার সূত্রে খবর, সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তাঁর কাছে এসআইআর সংক্রান্ত নোটিশ আসে। এক বার নয়, পর পর চার বার তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। প্রতিবারই নথিপত্র নিয়ে হাজির হয়েছিলেন তিনি, কিন্তু প্রতিবারই নতুন করে সংশয় প্রকাশ করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। শেষমেশ এলাকার পাঁচ জনের সই সংবলিত নথিপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। সেই সব নথি জোগাড় করলেও তা জমা দেওয়ার আগেই চিরতরে চলে গেলেন আনোয়ার।

প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, রবিবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার সময়ও আনোয়ারের চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট ছিল। নথিপত্র ঠিকঠাক আছে কি না, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন তিনি। রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। তাঁর পরিজনদের দাবি, বারবার শুনানির ডাক এবং নাগরিকত্ব হারানো বা উচ্ছেদের আশঙ্কায় আনোয়ার চূড়ান্ত দুশ্চিন্তায় ছিলেন। সেই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই তাঁর হৃৎপিণ্ড বিকল হয়ে যায়। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে নির্বাচন কমিশন সাধারণ মানুষকে এসআইআর-এর নামে হেনস্থা করছে। তারই বলি হলেন এই প্রৌঢ়। ডানকুনির এই ঘটনা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে জনমানসে জমানো ক্ষোভকে আরও উস্কে দিল।

আরও পড়ুন- কৌটোয় যত্নে আগলে ‘মায়ের স্মৃতি’, আবেগপ্রবণ মমতা

_

_

_

_

_

_
_

