ব্রাত্য বসু (Bratya Basu) ও শশী পাঁজার (Shashi Panja) উপস্থিতিতে কার্শিয়াঙের বিজেপি বিধায়ক যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে। বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা (Bishnu Prasad Sharma) বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে যোগ দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা হাতে তুলে নিলেন। গত কয়েক বছর ধরেই বেসুরো বিষ্ণুপ্রসাদ। এমতাবস্থায় শশী পাঁজা দাবি করেন, বিষ্ণু প্রসাদ যে দীর্ঘদিন ধরে বিজেপিতে অস্বস্তি বোধ করছিলেন, তা বোঝা যেত। বলেন, “বিধানসভায় যখন বিজেপি ওয়াকআউট করত, বিষ্ণ প্রসাদ তখন বসে থাকতেন। আজ আমাদের এক সহযোদ্ধাকে সাথে পেয়ে আমরা আনন্দিত। বিজেপি কোন গঠনমূলক তর্ক, বক্তব্য রাখত না। যুক্তি দিয়ে কথা তারা বলতে পারত না। তারা সুস্থ রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। কিন্তু বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা বহুদিন থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য সমর্থন করেছেন। খুব সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ গোর্খা নেতা তিনি। তিনি কৃষক, মাটির মানুষ আজ মা মাটি মানুষে যোগদান করছেন। তিনি নিজের অপূর্ণ ইচ্ছে এখানে সম্পূর্ণ করতে চান। বিজেপি বলে এক, করে আরেক। তিনি ধ্বংসাত্মক রাজনীতি সমর্থন করেন না।”

তিনি আরও বলেন, ”দিদি বলেছেন, ধর্ম যার যার উৎসব সবার কিন্তু বিহারে দেখুন মটন কিনতে দিচ্ছে না। এখানেও আপনার খাবার, ভাষা, পোশাক সব কিছু নিয়েই তাঁদের কথা বলতে হয়। ওদের উদ্দেশ্য বাংলাকে নিজেদের দখলে নেওয়া, জব্দ করা। কিন্তু আমরা সব ধর্মকে সমান গুরুত্ব দিই।” হুমায়ুন কবিরের প্রসঙ্গ উঠতেই শশী পাঁজা গঠনমূলক কাজের দিকে নজর দেওয়ার কথা বলেন। জানান, ”হুমায়ূনকে নিয়ে ‘অবসেশন’ থেকে বেরিয়ে আসুন।” আরও পড়ুন: SIR শুনানির পরেও কাজের চাপ! কালিয়াচকে BLO মৃত্যুতে প্রশ্ন

ব্রাত্য বসু এদিন বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, ”আমাদের প্রধানমন্ত্রী বাংলার প্রতি তাঁর ভালোবাসা আজ আবার দেখিয়েছে। রামকৃষ্ণদেবকে তিনি স্বামী বলে উল্লেখ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী এই নিয়ে সরব হয়েছেন। এই ধরণের অপমান এর ক্ষেত্রে আমরা মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করছি। বিজেপির কথার দাম নেই। দিল্লি বিস্ফোরণে পরিবারগুলিকে টাকা দেওয়ার কথা বলেছিল বিজেপি, দেয়নি সেটা আলাদা বিষয়।প্রতিশ্রুতি দিয়েও তারা কথা রাখে না।”

এরপই সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে খয়রাতি রাজনীতি প্রসঙ্গে শশী পাঁজা বলেন, ”মামলাটি তামিলনাড়ুর স্টেট ইলেকশন নিয়ে। কোর্ট একটা পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। মানুষের পাশে দাঁড়ানো যেকোনো নির্বাচিত সরকার নিজের দায়িত্ব বলে মনে করে। সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করা যায়, সেটা বিজেপির পছন্দ নাও হতে পারে। ইউনিয়ন বাজেটে বেকারত্ব দূর করার কোন সমাধান পাওয়া যায়নি। উল্টে এফডিআই কমে গিয়েছে। কোন দিশা খুঁজে পাওয়া যায়নি। ২০৪৭ এর কথা বলে কি হবে? এই ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট সার্বিকভাবে একটা পর্যবেক্ষণ শুনিয়েছে। আর বিজেপি একাধিকবার বাংলাকে দেখে প্রকল্পগুলি নকল করেছেন যদিও ঠিকমত করতে পারেনি। বিহারে মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট চালু হাওয়ার পর মহিলাদের টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হল। কিন্তু ভোটের পর টাকা দেওয়া বন্ধ। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোন প্রকল্প ভোটকেন্দ্রিক নয়।”

–

–

–

–

–

–


