রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের (এসআইআর) কাজ শেষ করে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিনক্ষণ ফের পিছিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলল। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা থাকলেও, নথিপত্র যাচাইয়ের যে পাহাড়প্রমাণ কাজ বাকি রয়েছে, তাতে ওই নির্দিষ্ট দিনে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে খোদ প্রশাসনিক মহলে।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের মূল লক্ষ্য হল একটি সম্পূর্ণ নির্ভুল এবং ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা তৈরি করা। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সমস্ত অমীমাংসিত নথির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। প্রয়োজনে কমিশনের কাছে অতিরিক্ত সময় চেয়ে আবেদন জানানো হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪ লক্ষ ৬৬ হাজারের বেশি ভোটারের নথিপত্র জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের দফতরে যাচাইয়ের অপেক্ষায় পড়ে রয়েছে। এর পাশাপাশি, নথি সংক্রান্ত জটিলতার জেরে প্রায় ৩০ লক্ষ ভোটারের তথ্য পুনরায় মাইক্রো অবজারভারদের মাধ্যমে ইআরও এবং এইআরও-দের কাছে পাঠানো হয়েছে। অন্তত ২০ লক্ষ ভোটারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি। নথিপত্র নিষ্পত্তির জন্য আগামী শনিবার পর্যন্ত সময়সীমা ধার্য করা হয়েছিল, কিন্তু যে বিপুল পরিমাণ কাজ এখনও বাকি, তাতে ওই সময়ের মধ্যে সবটা মিটিয়ে ফেলা কার্যত অসম্ভব বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক কম হয়নি। তথ্য বলছে, প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছিল। বৃহস্পতিবার নতুন করে আরও ৪ লক্ষ ৪৪ হাজার ৯৭০ জন ভোটারের নাম অযোগ্য হিসেবে বাদ দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় নথির অভাবে। সব মিলিয়ে নাম বাদ পড়ার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৩ লক্ষ।

অন্যদিকে, শুনানি পর্বে প্রায় ৫ লক্ষ ভোটার অনুপস্থিত ছিলেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় থাকা বা না থাকা নিয়ে এখনও এক অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে। কমিশনের অন্দরের খবর, এই বিশাল সংখ্যক ঝুলে থাকা মামলার নিষ্পত্তি না করে তড়িঘড়ি তালিকা প্রকাশ করে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না দফতর। ফলে সময়সীমা বাড়ানো এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন- বকেয়াসহ ১০ শতাংশ ডিএ পাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা, ঘোষণা স্কুল শিক্ষা দফতরের

_

_

_

_
_

