Monday, February 23, 2026

মোদির চিঠিতে ‘জয় মা কালী’! বাংলা বঞ্চনার কথা কই, প্রশ্ন তৃণমূলের

Date:

Share post:

সম্প্রতি বাংলা ভাষার প্রতি খুবই প্রীতি দেখাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এবার সেই বাংলাতেই বিকশিত পশ্চিমবঙ্গের কথা বলছেন তিনি। একদিকে বাংলায় রোজগারের সুযোগ বাড়িয়ে পরিযায়ী শ্রমিকের পরিমাণ কমানোর ইঙ্গিত দিচ্ছেন তিনি। অন্যদিকে কেন্দ্রের একাধিক প্রকল্পের (central project) প্রচার করা হয়েছে সেখানে। এই পরিস্থিতিতে চিঠিতে (Prime Minister letter) কেন বাংলার বঞ্চনার উল্লেখ নেই, তা নিয়েই আক্রমণ বাংলার শাসকদল তৃণমূলের।

সম্প্রতি বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের স্লোগান বদলে গিয়েছে বাংলায় এসে। তারই প্রতিফলন প্রধানমন্ত্রীর চিঠিতে। এবার তিনি চিঠি শুরু করেছিলেন ‘জয় মা কালী’ লিখে। তা নিয়ে অবশ্য কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।

প্রধানমন্ত্রী নিজের চিঠিতেই লিখেছেন বাংলার আবালবৃদ্ধবনিতা এখন বঞ্চনা শিকার। সেই যন্ত্রণায় তাঁর হৃদয় ভারাক্রান্ত। তাই তিনি বিকশিত পশ্চিমবঙ্গের শপথ নিচ্ছেন। আর সেখানেই প্রশ্ন তুলেছে বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তোলেন, চিঠিতে জয় শ্রীরাম (Jai Sriram) আর নেই। জয় মা কালী-তে ফিরে এসেছে। বাংলার বকেয়া (Bengal dues), বাংলার ১০০ দিনের কাজ, বাংলার আবাসের টাকা ১ লক্ষ ৯৬ হাজার কোটি টাকা – তার উল্লেখ পর্যন্ত নেই। বাংলার ওই চিঠিতে কেন্দ্রের বঞ্চনা প্রতিহিংসা নিয়ে একটি শব্দও নেই। এর সঙ্গে বাংলার মানুষের কোন সম্পর্ক নেই।

 

এই চিঠি দুদিন আগে প্রকাশ্যে এলেও তা হাতে পাওয়ার কোনও তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। আদৌ কত চিঠি কীভাবে, কাদের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হবে সাধারণ মানুষের মধ্যে, তা নিয়ে বিজেপির তরফে কিছুই জানানো হয়নি। সেখানেই কুণাল ঘোষের কটাক্ষ, প্রধানমন্ত্রী (Prime Minister) নরেন্দ্র মোদির নাম দিয়ে চিঠিগুলো ছাপাচ্ছে। সেটা বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার লোক নেই, বিজেপি বিএলএ-টুও দিতে পারে না। সব মিলিয়ে ২৫ হাজার ছাপিয়েছে কিনা সন্দেহ, নিয়ে যাওয়ার লোক নেই।

আরও পড়ুন : নেই ভোটার তালিকাই, সেই ভোটার নিরাপত্তায় সোমেই বাহিনী মোতায়েন বৈঠক! দুর্বলতা প্রকাশ্যে, কটাক্ষ তৃণমূলের

চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলার মানুষকে এবার পরিবর্তন করতে হবে। তার জন্য উদ্যোগ নিতে হবে বাংলার মানুষকে। বিজেপির উন্নয়নযজ্ঞে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সেখানেই কুণাল ঘোষের স্পষ্ট বার্তা, বাংলায় কোনও পরিবর্তন হবে না। আবার প্রত্যাবর্তন। ২০২১ সালেও ওরা বলেছিলেন পরিবর্তনের কথা। কিন্তু বাংলার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের উপরই ভরসা রাখবেন।

spot_img

Related articles

ধর্ম দেখে কম্বল-রাজনীতি রাজস্থানে: এভাবে ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’ বিজেপি নেতার!

নরেন্দ্র মোদির ভোটার হলে তবেই বিজেপির হাত থেকে অনুদান পাওয়া যাবে। বাংলায় বিজেপির সরকার নেই, তাই উন্নয়নে বঞ্চনা।...

নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামেই হার! নেটিজেনদের তোপের মুখে পাণ্ডিয়ার প্রেমিকা

নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়মে ফিরল স্বপ্নভঙ্গের স্মৃতি। ২০২৩ সালের নভেম্বরে এই স্টেডিয়ামেই একদিনের বিশ্বকাপ ফাইনালে হেরেছিল ভারত।এবার টি২০ বিশ্বকাপে...

জলাভূমি ভরাট-মামলায় ক্ষোভ প্রকাশ বিচারপতি সিনহার, কেন্দ্রীয় মন্ত্রককে যুক্ত করার নির্দেশ

পূর্ব কলকাতার (East Kolkata) জলাভূমিতে বেআইনি নির্মাণ ভাঙা নিয়ে রাজ্য সরকার ও পুর কর্তৃপক্ষের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট কলকাতা হাই...

সেলেব-আবাসন আরবানায় অগ্নিকাণ্ড: অল্পের জন্য বড়সড় বিপদ থেকে রক্ষা

দক্ষিণ কলকাতার অভিজাত আবাসনে ফের অগ্নিকাণ্ডের আতঙ্ক। সোমবার সকালে আনন্দপুর-এর নাজিরাবাদ সংলগ্ন ‘আরবানা কমপ্লেক্স’ (UrbanaComplex) -এর একটি টাওয়ারে...