সমগ্র শিক্ষা মিশনের কোটি কোটি টাকা আটকে রেখেছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। সেই এবার সেই ইস্যুতে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের যুক্তিকে নস্যাৎ করে পাল্টা তোপ দাগলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর ‘শিশুশুলভ’ দাবির প্রেক্ষিতে কড়া ভাষায় ব্রাত্য জানিয়ে দিলেন, রাজ্যের টাকা আটকে রাখা কেবল অগণতান্ত্রিক নয়, বরং দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর সরাসরি আঘাত।

বিতর্কের সূত্রপাত সুকান্ত মজুমদারের একটি মন্তব্য ঘিরে। তাঁর দাবি ছিল, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নিয়মকানুন রাজ্য যথাযথভাবে পালন করছে না বলেই বরাদ্দ অর্থ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর পাল্টা জবাবে ব্রাত্য বসু মনে করিয়ে দেন, শিক্ষা সংবিধানের যুগ্ম তালিকাভুক্ত বিষয়। পিএমশ্রী প্রকল্পের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, এই ধরনের প্রকল্পে কেন্দ্র ৬০ শতাংশ টাকা দিলেও বাকি ৪০ শতাংশ রাজ্যকে বহন করতে হয়। অথচ নামকরণের ক্ষেত্রে একাধিপত্য কায়েম করতে চাইছে কেন্দ্র।

শিক্ষামন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য, আপত্তিটা সম্পূর্ণ নীতিগত। কেন্দ্রের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, “প্রকল্পের টাকা যদি সাধারণ মানুষের কর থেকে আসে এবং তার একটি বড় অংশ যদি রাজ্য বহন করে, তবে সেই প্রকল্প কেবল প্রধানমন্ত্রীর নামেই কেন নামাঙ্কিত হবে? সেখানে রাজ্যের নাম থাকবে না কেন?” ব্রাত্যের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার আজও এই প্রশ্নের কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি।

এখানেই শেষ নয়, ব্রাত্য বসু অভিযোগ করেছেন যে, কেন্দ্র নিজের ভাগের টাকা না দিলেও রাজ্যকে তার নিজস্ব তহবিল থেকে ভর্তুকি দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখতে হচ্ছে। তিনি সরাসরি সুকান্ত মজুমদারকে বিঁধে বলেন, কেন্দ্রের এই আচরণ আসলে একপাক্ষিক মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ। সংবিধান স্বীকৃত ফেডারালিজম বা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে প্রতি পদে ক্ষতবিক্ষত করা হচ্ছে বলেও তিনি সরব হন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, বকেয়া টাকা নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য এই সংঘাত নতুন মাত্রা পেল। ব্রাত্য বসুর তোলা যুক্তিগুলি কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর জন্য বেশ অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই টাকা আটকে রাখাকে ‘বেআইনি, অগণতান্ত্রিক এবং স্বেচ্ছাচারী’ আখ্যা দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যের পাওনা নিয়ে কোনও আপস করা হবে না।

আরও পড়ুন- সারদা-নারদা থেকে সাম্প্রদায়িক উস্কানি! শুভেন্দুর কুকীর্তি নিয়ে ‘চার্জশিট’ প্রকাশ তৃণমূলের

_

_

_

_
_


