উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাটের মতো ডবল ইঞ্জিন সরকার রাজ্যেই সবচেয়ে বেশি অত্যাচারিত তপশিলি জাতি-উপজাতি (SC-ST) সম্প্রদায়ে মানুষ। সোমবার, নজরুল মঞ্চে ‘তফশিলির সংলাপ’ সমাবেশে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)। পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিজেপিকে তুলোধনা করেন তৃণমূলের সেনাপতি। বলেন, “এটাই প্রমাণ বিজেপি (BJP) ক্ষমতায় এলে তপশিলি জাতিদের তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করবে।“

রাজ্যের তফশিলি জাতি-উপজাতি মানুষের আরও কাছে পৌঁছতে ‘তপশিলি সংলাপ’ নামে প্রচারাভিযানে নেমেছে তৃণমূল। রাজ্যের প্রায় সাড়ে তিন হাজার তফশিলি জাতি-উরজাতি নেতা-নেত্রীকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছেন অভিষেক (Abhishek Banerjee)। এদিন ‘তফশিলির সংলাপ’ সমাবেশে কেন্দ্রীয় প্রকল্পে মোদি-শাহকে একতিরে বিদ্ধ করেন অভিষেক।
আরও খবর: পরিবারের ১০ জনের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বিচারাধীন, আতঙ্কে মৃত্যু বৃদ্ধার!

ন্যাশনাল ক্রাইম ব্যুরোর রিপোর্ট তুলে ধরে তৃণমূলের সর্বভাতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, “বিজেপিশাসিত রাজ্য উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশে তফশিলিদের উপর অত্যাচারের নিরিখে গোল্ড, সিলভার ও ব্রোঞ্জ পেয়েছে। এই বিজেপি বাবা সাহেব আম্বেদকর রচিত সংবিধান সংশোধন করে তফশিলিদের অধিকার কেড়ে নেবে।” অভিষেকের কথায়, “আম্বেদকরের নাম নিলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গায়ে লাগছে। তিনি বলছেন, এখন আম্বেদকরের নাম নেওয়া ফ্যাশন হয়ে গিয়েছে।“

এর পরেই নেতাকর্মীদের নতুন কর্মসূচির কথা জানিয়ে তৃণমূলের সেনাপতি বলেন, “বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝাতে হবে, বিজেপিকে ভোট দেওয়া মানে খাল কেটে কুমির আনা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল সরকার তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতিদের জন্য কী করেছে সেই তথ্য তুলে ধরতে হবে।”

এদিনর সমাবেশ থেকে বাংলাকে বঞ্চনার অভিযোগে ফের সরব হন অভিষেক। বলেন, “একের পর এক প্রকল্পে কেন্দ্রের বঞ্চনা। আবাস প্রকল্পে ৫ পয়সারও অবদান নেই কেন্দ্রের।“

বিজেপির রথযাত্রার কর্মসূচিকেও কটাক্ষ করেন অভিষেক। বলেন, “আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে রথযাত্রা হয় বলে জানি। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসে রথযাত্রা আবার কী।” তৃণমূলের সর্বভাতীয় সাধারণ সম্পাদকের হুঙ্কার, “চোর চিটিংবাজদের রথ। রথ যত্নে রাখুন। ওই রথেই গুজরাট ফিরে যেতে হবে। অন্তর্যামী আগামী দিনে ফল দেখিয়ে দেবে। বিজেপিকে ৫০-এর নীচে নামাতে হবে।” খোঁচা দিয়ে অভিষেক বলেন, ”যখন রথ যাবে, পারলে ১০টাকা দিয়ে একটা মিষ্টি কিনে বা ৫টাকা দিয়ে এক কাপ চা কিনে খাওয়াবেন। বলবেন, আমাদের টাকা তো আটকে রেখেছেন, কিন্তু এটাই বাংলার আতিথেয়তা। কোনরকম প্ররোচনায় পা দেবেন না। শান্তি বজায় রাখুন, শেষ কথা মানুষই বলবে।”

–

–

–

–



