দোলের আগের রাতেই ইসলামপুরে (Islampur incident) চাঞ্চল্যকর ঘটনা। এক তরুণীকে ঘিরে দুই বন্ধুর প্রেমের টানাপোড়েন থেকে শুরু হওয়া বিবাদ শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ দুর্ঘটনায় গড়াল। গাড়ির ভিতরেই মারধর ও ধস্তাধস্তির জেরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়ে যায় গাড়ি। প্রাণ হারান তিন যুবক, গুরুতর জখম ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের নাম সুরজিৎ দাস, বনি দাস ও মুকুন্দ দাস। প্রত্যেকের বয়স আনুমানিক ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন নদিয়ার বাসিন্দা অতনু শীল। অতনু-সহ মোট চারজনকে ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আরও পড়ুনঃ সুলগ্না ডান্স একাডেমির উদ্যোগে রঙের উৎসবে বিভিন্ন ঘরানার শিল্পীদের মহাসম্মেলন

ইসলামপুর থানার অন্তর্গত সুবল কর্মকারের মোটর গ্যারাজে এই সাতজন যুবক কাজ করতেন। নদিয়ার বাসিন্দা অতনু শীল ও মুকুন্দ দাসের মধ্যে একই তরুণীকে ঘিরে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। সেই সূত্রেই দু’জনের মধ্যে আগে থেকেই মনোমালিন্য চলছিল।

সোমবার রাতে অতনু ইসলামপুরের একটি হোটেলে ওঠেন। পরে মুকুন্দ-সহ সাতজন মিলে মালিকের ছেলের গাড়ি নিয়ে ঘুরতে বেরোন। তাঁরা ইসলামপুরের বিহার সীমান্ত সংলগ্ন ফাটিপুকুর এলাকায় পৌঁছন। সেখানেই গাড়ির ভিতরে অতনু ও মুকুন্দের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা চরমে ওঠে। অভিযোগ, অতনুকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং গাড়ির ভিতরেই শুরু হয় হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি।

এই উত্তেজনার মধ্যেই চালকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি সোজা একটি পুকুরে গিয়ে পড়ে। বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন। তাঁদের তৎপরতায় সাতজনকেই উদ্ধার করা হয়। কিন্তু ততক্ষণে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়। বাকি চারজনকে দ্রুত ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে বিহারের পুটিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। তিনটি দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বিহারের কিষানগঞ্জ মেডিক্যাল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গোটা ঘটনায় ইসলামপুর থানার পুলিশ ও বিহার পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে।

–

–

–



