বাংলার মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার স্বার্থে কলকাতার মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসেছে তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ধর্নার দ্বিতীয়দিন শনিবার বাংলার কৃষ্টিসংস্কৃতি তুলে বিজেপিকে একহাত নিলেন তৃণমূল সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)। ধর্নামঞ্চ থেকে তিনি দাবি করেন, এই আন্দোলন কেবল কোনও রাজনৈতিক দলের নয়, বরং পাহাড় থেকে সমতলে থাকা বাংলার মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই। এই অধিকার রক্ষার লড়াইতে একমাত্র পথে এসে আন্দোলনে নেমেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করছে কেন্দ্র সরকার আর তার আঙ্গুলি হেলনে এই কাজ সুপরিকল্পিতভাবে করছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। তাঁর কথায়, “জেনুইন ভোটারের নাম কেটে পিছন দিক থেকে এসআইআর চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। যে সমস্ত রাজ্যে এসআইআর করা হচ্ছে তার কোনও রাজ্যে মাইক্রো অবজার্ভার নেই কিন্তু আমাদের রাজ্যে এই বাংলায় মাইক্রো অবজার্ভার বসিয়ে ভোটাধিকার খর্ব করার চেষ্টা করা হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে।” আরও পড়ুন: আপনাদের রথের চাকা গুঁড়িয়ে দেবে বাংলার মা-মাটি-মানুষের সরকার: ধর্নামঞ্চ থেকে চ্যালেঞ্জ জুনের

অথচ যে বাংলার মানুষের নাম বাদের চক্রান্ত নির্বাচন কমিশন করছে সেই বাঙালি না থাকলে কতটা সম্ভব হত দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠা করা, প্রশ্ন তোলেন ঋতব্রত। তিনি বলেন, ১৯৫২ সালে দেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল যা ছিল এক বাঙালির-ই মস্তিষ্কপ্রসূত। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে সেই অধিকার খর্ব করার চেষ্টা করছে বিজেপি। এবারে রক্ষার লড়াইয়েই আবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে পথে নামতে হচ্ছে। বিজেপিকে কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য, “বিজেপির অশ্বমেধের ঘোড়া বারবার বাংলায় এসে থেমেছে, এবারও থামবে।”

বক্তৃতায় বাংলার ভাষা ও সংস্কৃতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ঋতব্রত। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং বাংলা ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। প্রায় ১২০০ বছর আগে চর্যাপদ-এর মাধ্যমে বাংলার ভাষার বিকাশের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির কথা তুলে ধরে বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ‘আমার সোনার বাংলা’ শুধু একটি গান নয়, বাঙালির আবেগ ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মাস্টারদা সূর্যসেনের মতো বাংলার মনীষীদের যেভাবে অপমান করা হচ্ছে তাতে বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতি রক্ষার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করারও আহ্বান জানান তিনি। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, বাংলার মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই চলবে এবং গণতন্ত্র রক্ষায় তৃণমূল ঐক্যবদ্ধভাবেই এই আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

–

–

–

–

–

–
