নতুন বছরের শুরু থেকে ধুঁকছে বাংলা সিনেমার ব্যবসা। ফেব্রুয়ারিতে ‘ভালো’ কোনও বাংলা ছবি মুক্তি না পাওয়ায় অনেকে পুরনো ছবি দিয়ে শো চালিয়েছেন। আবার বিনোদিনী থিয়েটার(Binodini Theatre), প্রিয়া সিনেমা হলের (Priya Cinema hall) মতো সিঙ্গেলস্ক্রিন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন হল মালিকরা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সমাধান সূত্র খুঁজতে চেয়েছিল ইমপা (The Eastern India Motion Picture Association )। মিটিং ডেকেছিলেন টলিউডের স্ক্রিনিং কমিটির (Screening Committee) সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত (Piya Sengupta)। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশন (FCTWEI) সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসও (Swarup Biswas)। হল মালিকরা এলেও দেখা গেল না কোনও প্রযোজককে। টলিপাড়ায় ফের সংকট!

নতুন বছরের আড়াই মাস অতিক্রান্ত। অথচ সেভাবে ভালো ব্যবসা করতে পারেনি কোনও বাংলা সিনেমা। নিজের রাজ্যের ভাষার ছবিকে প্রাইম টাইম দিতে গিয়ে হিন্দি ছবির প্রযোজকরা ও পাশে নেই বলে অভিযোগ করেছেন বাংলার হল মালিকরা। এই পরিস্থিতিতে ইমপার ঢাকা মিটিংয়ে হাজির হন বিনোদিনী থিয়েটারের মালিক জয়দীপ মুখোপাধ্যায়(Joydeep Mukherjee), নবীনা সিনেমাহলের মালিক নবীন চৌখানি, পরিবেশক এবং হলমালিক পঙ্কজ লাডিয়া, শতদীপ সাহা, মিনার-বিজলি-ছবিঘরের ম্যানেজার চিরঞ্জিৎ সাহা, মালিক সন্দীপ সেন, পরিবেশক বাবলু ডামানিরা। সেখানে কোনও প্রযোজক না থাকায় চিন্তিত হল মালিকরা। তাহলে কি এবার বাংলা ছবির প্রযোজকরাও তাঁদের পাশে নেই? পিয়া বলেন, “আচমকা বৈঠক ডাকা হয়। প্রযোজকদের একদম শেষ মুহূর্তে জানানো হয়। নিসপাল সিং রানে বা শ্রীকান্ত মোহতা শহরের বাইরে। তাঁরা জানিয়েছেন আসতে পারবেন না। বাকি প্রযোজকেরা কিছু জানাননি আমাদের।” স্ক্রিনিং কমিটি আগামী ছ’মাসের সিনে ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেছে। সেখানে বড় বড় ছবি প্রযোজকরা বিশেষ বিশেষ দিন বেছে নিতে চাইছেন তাঁদের ছবি মুক্তির জন্য। পিয়া ও স্বরূপের কথায় “সারা বছর ধরে ছবিমুক্তি পেলে সিনেমাহল বন্ধ রাখত হয় না হলমালিকদের। উৎসবে একটি বা দু’টি বাংলা ছবি মুক্তি পেলে সব ভাষার ছবিই মুক্তি দিতে পারেন হলমালিকেরা। অন্য ভাষার ছবির পরিবেশকদের সঙ্গেও সুসম্পর্ক বজায় থাকে।” কিন্তু দেখা যাচ্ছে নামি অভিনেতা প্রযোজকরা পুজো বা ক্রিসমাসের মতো সময় বেছে নিচ্ছেন নিজেদের ছবি মুক্তির জন্য। ফলে একদিনে একাধিক ছবি মুক্তি পাচ্ছে আর বাকি সময়টায় হলে দর্শক যাচ্ছে না। অর্থাৎ স্ক্রিনিং কমিটি বাংলা ছবির ভালোর জন্য যা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন ইতিমধ্যেই অনেকে তাকে সমর্থন করছেন না। সেই তালিকায় সবার আগে রয়েছে অভিনেতা প্রযোজক দেবের (Dev) নাম। তিনি নিজের মতো করে সিনেমা মুক্তির দিন ঘোষণা করেছেন। এতে সমস্যায় বাকি প্রযোজকরা। জিৎকেও (Jeet) তাঁর আগামী ছবি মুক্তির দিন পরিবর্তন করতে হয়েছে।

একদিকে যখন ভালো ছবির অভাবে সিনেমা হল বন্ধ রাখার কথা শোনা যাচ্ছে, তখন আবার টলিউডের অন্তরে অনেকেই বলছেন প্রত্যেক বছর ইদের আগে বাংলা বিনোদন জগতের ব্যবসায় কিছুটা মন্দা হয়। বিনোদিনী সিনেমা হলের বাইরের রক্ষণাবেক্ষণের নোটিশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। প্রিয়া সিনেমা হলেও কাজ চলছে। রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে নবীনা সিনেমা হলেও। তাহলে ছবি অভাবে শো বন্ধ নাকি সিনেমা হলের নিজস্ব কাজের জন্য? হল মালিকদের কথায় দুটোই সত্যি। মানে দর্শক না থাকার জন্য সিনেমা হলে শো বন্ধ রেখে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে নেওয়া হচ্ছে, যাতে আগামিতে সমস্যা না হয়। যখন এই নিয়ে আলোচনা চলছে তখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ফের সক্রিয় রানা সরকার (Rana Sarkar)। প্রযোজক সিনেমা হল বন্ধের পিছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের তত্ত্বকে তুলে ধরতে চেয়েছেন। জবাবে পিয়া জানান, “যাঁরা ছবির অভাবে সিনেমাহল খোলা রাখতে পারছেন না, তাঁরা তো এমনিতেই আধমরা। এই পরিস্থিতিতে তাঁরা কী রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে শামিল হবেন?” এর পাল্টা উত্তরে রানা সরাসরি টলিউডের কমিটির সভাপতি এবং তাঁর ছেলেকে (বনি সেনগুপ্ত)আক্রমণ করে একের পর এক পোস্ট করে চলেছেন। সবমিলিয়ে এই মুহূর্তে বাংলা ছবিকে ঘিরে যে এক অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা কতদিনে স্বাভাবিক হয় এখন সেটাই দেখার।

–

–

–

–

–

–



