“মধ্যরাতে মেসেজ পেলাম, কাউকে কাজে লাগিয়ে ছুপারুস্তমের মতো গুপ্ত তাণ্ডব করছে“- সোমবার মহামিছিলের শেষে ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিং-এর মঞ্চ থেকে এক তিরে বিজেপি আর নির্বাচন কমিশনকে (Election Commission of India) নিশানা করলেন তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তোপ দেগে তিনি বলেন, “গত রাতে কী করলেন? মধ্যরাতে মেসেজ পেলাম, কাউকে কাজে লাগিয়ে ছুপারুস্তমের মতো গুপ্ত তাণ্ডব করছে। বাঙালি মহিলা চিফ সেক্রেটারি, ওঁকে বদলে দিয়েছেন। ওঁরা অ্যান্টি উইম্যান। ওরা মহিলাবিদ্বেষী।“

নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরেই মুখ্যসচিব থেকে শুরু করে রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনের শীর্ষ আমলাদের বদল করছে নির্বাচন কমিশন। রবিবার মধ্যরাতে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিবদের বদল করে নির্বাচন কমিশন। এদিন প্রতিবাদ মঞ্চ থেকে এই ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ করেন মমতা। বিজেপিকে নারী বিদ্বেষী বলে নিশানা করে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, “গত রাতে কী করলেন? মধ্যরাতে মেসেজ পেলাম, কাউকে কাজে লাগিয়ে ছুপারুস্তমের মতো গুপ্ত তাণ্ডব করছে। বাঙালি মহিলা চিফ সেক্রেটারি, ওঁকে বদলে দিয়েছেন। ওঁরা অ্যান্টি উইম্যান। ওরা মহিলাবিদ্বেষী। এ যেন মগের মুলুক। একজন মহিলাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বার করে দিলেন। একবার রাজ্যকে জিজ্ঞাসাও করলেন না! রাত একটায় মেসেজ পেলাম। আগে নিয়ম ছিল রাজ্য সরকারের কাছে লিস্ট চাইতেন। আমরা তিনটে করে নাম পাঠাতাম। ওরা সিলেক্ট করত। এ তো মগেরমুলুক। কেন চেঞ্জ করলেন সিপি সুপ্রতিমকে? টাকা ঢোকাবেন সে জন্য? হামলা করবেন যাতে ধরতে না পারেন সে জন্য? আমরাও নজর রাখব। পুলিশকে ‘থ্রেট’ করে লাভ নেই। ওরা চাকরি করে। চাকরিটা আপনারা দেননি। ওরা নিজেদের যোগ্যতায় পেয়েছে চাকরি। এক মাসের জন্য বদলে আবার বলছে পরে দেখে নেবে।“ আরও পড়ুন: নির্বাচন সংক্রান্ত আরও আটটি ‘আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি’ জারি কমিশনের

বিজেপির বাংলা ও বাঙালি বিদ্বেষী মানসিকতাকে কটাক্ষ করে তৃণমূল সভানেত্রী বলেন, “ডিজি কে ছিলেন? পীযূষ পাণ্ডে। তাঁকেও এক কথায় বাদ। আপনারা শুধু বাঙালি নয়, অবাঙালিদেরও বাদ দিচ্ছেন। তার মানে নন বেঙ্গলি এফিশিয়েন্টদেরও বাদ দিয়েছেন। আসলে বিজেপির কথায় কারা কাজ করবে দেখে দেখে চয়েস করছেন। এটা বিনাশকালে বুদ্ধিনাশ। যাঁকেই পাঠান, তাঁরা আমাদের হয়ে কাজ করবেন। মানুষের হয়ে কাজ করবেন। সব চেঞ্জ করে দিন, তারপরেও বাংলার সরকার বদলাবে না। লিখে নিন। জমিদার, জোরদার এরা। প্রধানমন্ত্রী মিটিংয়ে বলছেন, চুন চুনকে মারেঙ্গে। আমি ওনাকে বলি দেশকে কী ভাবে রক্ষা করবেন? আপনার মুখে এটা শোভা পায় না।“

তীব্র আক্রমণ করে মমতা বলেন, “আপনারা রাত সাড়ে ১২টার পরে নন্দিনী চক্রবর্তীকে তাণ্ডব করে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিলেন। বিজেপির দালালি করতে গিয়ে রাজ্যকে জিজ্ঞাসা করার দরকার মনে করলেন না। ধিক আপনাদের। হোম সেক্রেটারিও বাদ। তিনি তো নন বেঙ্গলি কেন বাদ হলেন? ডিজি পীযূষ পাণ্ডে, বিনীত গোয়েল তো নন বেঙ্গলি ছিলেন। তার মানে নন বেঙ্গলি এফিশিয়েন্টদেরও বাদ দিয়েছেন। আসলে বিজেপির কথায় কারা কাজ করবেন। দেখে দেখে চয়েস করছেন। এটা বিনাশকালে বুদ্ধিনাশ। জেনে রাখুন যে অফিসারই পাঠান, তাঁরা সবাই আমাদের হয়েই কাজ করবেন, মানুষের হয়ে, বাংলার হয়ে কাজ করবেন।“

রবিবারে মোদির ব্রিগেডের আগে রাজ্যের মন্ত্রীর বাড়িতে বিজেপির হামলার প্রসঙ্গ তুলে মমতা বলেন, “ব্রিগেডে মিটিং করার আগে আপনারা কী করলেন? শশী পাঁজার বাড়িতে হামলা করলেন? লজ্জা থাকা দরকার। রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ি আক্রান্ত হয়েছে। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি আক্রান্ত হবে। কালীঘাট আক্রান্ত হবে। চারদিকে গুন্ডা লেলিয়ে দেবে। আমরা বলি, বুকের পাটা থাকলে দেখি। লড়ে নেবো। সবকটাকে লড়ে নেব। আমরা ঘাসকে জন্ম দিই। ঘাসে মুখ দিয়ে চলি না। আমরা হামলার বদলে হামলা করব না। তবে আমরা আর সহ্য করব না। আগে বলেছি, বদলা নয় বদল চাই। এবার বলছি, বিজেপি হটাও। আজ মিছিলে প্রমাণ হয়ে গিয়েছে, যতই করো হামলা। জিতবে কিন্তু বাংলা। বাংলার মানুষ শান্তিতে থাকুক। বাংলার ভোটটা শান্তিপূর্ণ ভাবে করে দিন। কেউ কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না। এর পরে দিল্লিটা আমরা বুঝে নেব। বিশ্বাস রাখুন ভরসা, ভরসা রাখুন, মানুষের স্কিম আরও বাড়বে।“

–

–

–

–

–

