দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে নির্বাচন ঘোষণার কয়েক ঘন্টার মধ্যে রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিক বদল জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের। এহেন সিদ্ধান্তে স্তম্ভিত গোটা দেশ। যেভাবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজ্যের প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে শীর্ষ আধিকারিক বদল করা হয়, তাও মানেননি সিইসি জ্ঞানেশ কুমার। ভবিষ্যতে যাতে এমন স্বেচ্ছাচারী পদক্ষেপে রাজ্যের আধিকারিক বদল করা না হয়, তা স্পষ্ট করে দিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সোমবার পাঠানো ওই চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অত্যন্ত ‘অগণতান্ত্রিক’ ভাবে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোর শীর্ষ কর্তাদের বদলি করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, প্রথা অনুযায়ী, কোনো আধিকারিককে বদল করতে হলে কমিশন রাজ্য সরকারের কাছে তিনটি নামের প্যানেল চেয়ে থাকে। কিন্তু এবার সেই প্রশাসনিক সৌজন্য বা নিয়ম মানা হয়নি। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও গাফিলতি বা অসদাচরণের অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক সচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি-র মতো স্পর্শকাতর পদের আধিকারিকদের একতরফাভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, সংবিধানের ৩২৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী কমিশনের হাতে ক্ষমতা থাকলেও, তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করাই দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক রীতি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “কমিশনের এই ধরণের একতরফা পদক্ষেপ সমবায় যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার (Cooperative Federalism) মর্মমূলে আঘাত করছে। এটি একটি নিরপেক্ষ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রশ্নচিহ্নের মুখে ফেলে দেয়।”

চিঠির শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছেন যাতে ভবিষ্যতে এই ধরণের ‘একতরফা’ ও ‘স্বেচ্ছাচারী’ সিদ্ধান্ত থেকে তারা বিরত থাকে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এ জাতীয় পদক্ষেপ প্রশাসনের মনোবল ভেঙে দেয় এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতাকে বিঘ্নিত করে।

আরও পড়ুন- বকেয়া ডিএ মেটাতে সরকারি নির্দেশ, দু’দফায় মিলবে প্রাপ্য অর্থ

_

_

_

_

_
_

