বরাবার বাংলা ও বাঙালিকেই অপমান করে গিয়েছে বিজেপি। নির্বাচনের আগেও সেই একইভাবে বাংলাকে অপমানের পথ ছাড়ল না কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। পাঁচ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নির্বাচন ঘোষণা হলেও শুধুমাত্র বাংলার মুখ্যসচিব থেকে ডিজিপি-র মতো শীর্ষ পদে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রদবদল নির্বাচন কমিশনের (Election Commission)। কার্যত এটাই বিজেপির প্যানিক রিঅ্যাকশন (panic reaction), দাবি বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের। সেই সঙ্গে যেভাবে বর্গীহানার মতো আগ্রাসন নির্বাচনমুখী বাংলায় চালাচ্ছে বিজেপি (BJP), তার পাল্টা জবাব দেওয়ার তাগিদও যে বাড়ছে বাংলার মানুষের, দাবি তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh)।

একদিকে রাজ্যে অশান্তির পরিবেশ দাবি করে বাংলাকে বদনাম করতে ব্যস্ত বঙ্গ বিজেপির নেতারা। সেখানে দুই দফায় নির্বাচন ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনই প্রমাণ করে দিয়েছে রাজ্যে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সেভাবেই সম্ভব। তবে তাতেও যে বাংলা দখল সম্ভব হবে না, তা বুঝেই কার্যত রাজ্যের উপর বর্গী হানা, দাবি কুণাল ঘোষের। তিনি দাবি করেন, প্রথমে রাজ্যপাল (Governor) বদল। তারপর বুঝে গিয়েছে রাজ্যের মানুষ ওদের পাশে নেই। বিজেপির পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেছে। ভোটার তালিকা থেকে বাংলার ভোটারদের নাম বাদ দিয়েছে। হয়রান করেছে। তৃণমূলের বুথ স্তরের কর্মীরা এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে লড়াই দিয়েছে। মানুষ দিশাহারা। তাঁরা দেখেছেন সেই সময়ে পাশে একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেস আছে।

তাই এবার কমিশন প্রয়োগ দিল্লির বিজেপি সরকারের। সেখানেই কুণালের দাবি, আপনারা জানেন আপনারা হেরে গিয়েছেন। তাই শেষে মরিয়া চেষ্টা করতে গিয়ে রাতের অন্ধকারে বদল করতে হচ্ছে। ঘুম হচ্ছে না। কমিশনের সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে বাঙালি মহিলা মুখ্যসচিব (CS), ডিজি (DGP), সিপি সবাইকে বদল করছে বিজেপি। এটাই ওদের প্যানিক রিঅ্যাকশন (panic reaction)।

বাংলায় যেভাবে বাংলায় মহিলাদের ক্ষমতায়ন করেছেন তার সর্বশ্রেষ্ঠ উদাহরণ মুখ্যসচিব পদে নন্দিনী চক্রবর্তীকে (Nandini Chakraborty) আনা। এবার নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া নিয়েও সরব তৃণমূল। সেখানেই বিজেপির নারী-মানসিকতা নিয়ে কুণালের স্পষ্ট কথা, মুখ্যসচিব পদে প্রথম একজন মহিলাকে আনলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তৃণমূল নারী শক্তিকে যেখানে প্রতিষ্ঠা করছে, সেখানে থেকে বিজেপি মহিলাদের টেনে নামাচ্ছে। এটাই বিজেপির চরিত্র।

আরও পড়ুন : আধিকারিকের পরে একাধিক শীর্ষ পুলিশ পদে বদল কমিশনের: নতুন ডিজিপি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা

এত সব চেষ্টাই যে বিফলে যাবে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের, সেই দাবিও করেন কুণাল। তাঁর দাবি, যার বিরুদ্ধে লড়তে আসছে তিনি টাইগ্রেস অফ ইন্ডিয়া। যত খোঁচাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেদ তত বাড়বে। তত বাংলার মানুষের জেদ বাড়বে। ভয় পেয়েছে বিজেপি। ইয়ে ডর আচ্ছা লাগা। কত বদল করবেন? যত বদল করবেন তত জবাব দেওয়ার তাগিদ বাড়ছে। আজ শুধু তৃণমূল পরিবার নয়, তার বাইরে যে মানুষ আছেন, তাঁরা হয়তো তৃণমূল করেন না, রাজনীতি করেন না। কিন্তু দিল্লির এই বর্গী হানার মতো আক্রমণে এককাট্টা হয়ে জবাব দেবেন তাঁরা।

–

–

–

–
