রাজ্যের তরফে সুপ্রিম কোর্টে ইডির মামলার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। মামলা করার অধিকার নেই এনফোর্সমেন্ট ডিরক্টোরেটের(ED)। মেনকা বলেন, “আমরা মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে শুনানি চাই।” এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ( Mamata Banerjee) আইনজীবী জবাব দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় চান। তাতে কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, “২ সপ্তাহ আগেই অতিরিক্ত হলফনামা দাখিল হয়েছে। মামলা পিছনোর জন্য একটা যুক্তিযুক্ত কারণ থাকা উচিত। এটা আশ্চর্যজনক যে, একজন মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে হস্তক্ষেপ করছেন। আর এখন আবার মামলার শুনানিতে দেরি করা হচ্ছে?”

এদিন মামলার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান বলেন, “ইডি কোনও কর্পোরেট সংস্থা নয়। তাদের মামলা করার অধিকার নেই। মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন থাকতে হবে। ইডির তো কোনও মৌলিক অধিকারই নেই, তাই তার লঙ্ঘনও হতে পারে না। ইডি কেন্দ্রীয় সরকারের একটি অংশ। এখানে মামলা করেছেন ইডির ডিরেক্টরেট। ফলে আইনের মধ্যে থেকেই কোনও ডিরেক্টরেটকে মামলা করতে হবে।” তিনি এ-ও বলেন যে, “৩২ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করতে গেলে মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন থাকতে হবে। এবং তা শুধুমাত্র ব্যক্তির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কিন্তু ব্যক্তির বাইরে মামলা করার কোনও অধিকারই নেই।” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “অর্থ তছরুপ প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ)-তেও কিছু দায়িত্ব এবং ক্ষমতা দেওয়া হলেও, মামলা করার অধিকার দেওয়া হয়নি।”

বুধবার শুনানি শুরু হতেই জবাব দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী। মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র বলেন, “চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। আপনারা এত দিনেও কেন পাল্টা জবাব দিলেন না? তদন্তে মুখ্যমন্ত্রীর ঢুকে পড়া নিয়ে বিচারপতি মিশ্র বলেন, “মামলা করার অধিকার কার রয়েছে এই নিয়ে সওয়াল করা হচ্ছে? মুখ্যমন্ত্রী যদি তদন্তে ঢুকে পড়েন, তা হলে ইডি(ED) কী করবে? এর পরে তো অন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও (তদন্তে) ঢুকে পড়লে কিছু করা যাবে না। এটা মোটেও সুখকর পরিস্থিতি নয়। একেবারেই অনভিপ্রেত ঘটনা।”

সুপ্রিম কোর্টের তরফে বলা হয়, “শুনানি শুরু করা হোক। আপনারা (রাজ্য) ইডির(ED) পাল্টা হলফনামা জমা দিতে চাইছেন। আবার মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন? আপনাদের মূল অবস্থান কী?” শীর্ষ আদালত জানায়, রেকর্ডে যা আছে, তাই নিয়েই শুনানি চলবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে।”

এদিন পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ গঠনের সওয়াল করে রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম বলেন, “সংবিধানের ১৪৩ অনুচ্ছেদের অধীনে কোনও রেফারেন্স শুনানির জন্য ন্যূনতম পাঁচ জন বিচারপতি থাকতে হবে। এখানে ইডি আইনগত প্রশ্ন তুলেছে।” তাঁর সংযোজন, “এখানে ইডি মানে কেন্দ্রীয় সরকার মামলা করেছে। ফলে আদালতকে দেখতে হবে, কেন্দ্রীয় সরকার আদৌ অভিযোগ করতে পারে কি না যে, কোনও রাজ্য সরকার তার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করছে।”

শীর্ষ আদালতে শ্যাম সওয়াল করে বলেন, “যদি এই মামলার অনুমতি দেওয়া হয়, তবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ ব্যবহার করে এক সরকারি বিভাগ আর এক বিভাগের বিরুদ্ধে মামলা করবে। অথবা, দুই রাজ্যের মধ্যে, কিংবা কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে বিরোধ তৈরি হবে। তাই এই বিষয়টি যথাযথ ভাবে পাঁচ জন বিচারপতির বেঞ্চেই পাঠানো উচিত।”

রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান বলেন, “সংবিধান প্রণেতারা কখনই ভাবেননি যে, একই সরকার বা রাষ্ট্রের দু’টি বিভাগ নিজেদের মধ্যে আদালতে লড়াই করবে। একই রাষ্ট্র বা কেন্দ্রীয় সরকারের দু’টি বিভাগের মধ্যে আদালতে মামলা করা না উপযুক্ত, না অনুমোদিত। বরং এতে জনস্বার্থের ক্ষতি হয়, কারণ এতে অযথা সরকারি অর্থ ও সময় নষ্ট হয়। সরকারের বিভিন্ন বিভাগ আসলে একই সরকারের অঙ্গ। তাই তাদের মধ্যে সমন্বয় থাকা উচিত, বিরোধ নয়।”

একই সঙ্গে তিনি বলেন, “সরকারকে মামলা করতে হলে বা সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করতে হলে তা ‘ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া’-র নামে করতে হবে। ইডির নামে নয়।

–

–
–
–

