স্ব-ইচ্ছায় ধর্ম পরিবর্তনের পর তপশিলি জাতির (SC Reservation) সংরক্ষণ বা মর্যাদা বজায় রাখা যাবে না—এমনই গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। মঙ্গলবার এক মামলায় রায় দিতে গিয়ে আদালত স্পষ্ট করেছে হিন্দু, শিখ বা বৌদ্ধ ধর্ম ছাড়া অন্য কোনও ধর্ম গ্রহণ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আর এসসি হিসেবে স্বীকৃত হবেন না।

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সংবিধানের কাঠামো ও ১৯৫০ সালের ‘Scheduled Castes Order’-এ এসসি শ্রেণিভুক্তরা হিন্দু, শিখ বা বৌদ্ধ ধর্ম সম্প্রদায়ের জন্য নির্দিষ্ট করা ছিল। অর্থাৎ যাদের মধ্যে বর্ণভিত্তিক বৈষম্য ছিল। এই প্রেক্ষাপটে বিচারপতি পিকে মিশ্র এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ জানায়, ইসলাম বা খ্রিস্টান ধর্মের ক্ষেত্রে এই নিয়ম লাগু হবে না। অর্থাৎ যদি কোনও ব্যক্তি স্বেচ্ছায় অন্য কোনও ধর্মে ধর্মান্তরিত হন এবং সক্রিয়ভাবে সেই ধর্ম পালন করেন, তবে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তপশিলি জাতির মর্যাদা হারাবেন। কারণ সেখানে এসসি মর্যাদা বহাল রাখা সংবিধানের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। রায়ে আরও বলা হয়েছে, ধর্মান্তরের পর এসসি সুবিধা যেমন শিক্ষা ও চাকরিতে সংরক্ষণ, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ইত্যাদি আর প্রযোজ্য হবে না। এই সিদ্ধান্ত দেশের বিভিন্ন রাজ্যে চলমান বিতর্ক ও আইনি চ্যালেঞ্জগুলির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী সহ একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে প্রাণনাশের হুমকি!

মামলা করেছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের বাসিন্দা চিন্তাড আনন্দ নামে এক ব্যক্তি। যিনি জন্মসূত্রে তিনি তপশিলি জাতিভুক্ত হলেও পরে খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘদিন পাদ্রি (Pastor) হিসেবে কাজ করেন। তাঁর দাবি ছিল, তাঁকে জাতিগতভাবে অপমান ও আক্রমণ করা হয়েছে। সেই অভিযোগে তিনি তপশিলি জাতি ও উপজাতি আইনে (SC/ST Act) মামলা দায়ের করেন। কিন্তু অন্ধ্রপ্রদেশ হাই কোর্ট আগেই বলেছিল, খ্রিস্টান ধর্মে বর্ণব্যবস্থা নেই, ফলে এসসি পরিচয় দাবি করা যাবে না। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যান আবেদনকারী। সুপ্রিম কোর্ট হাই কোর্টের সিদ্ধান্তই বহাল রাখে।

এই রায়ের মূল ভিত্তি হল সংবিধান (Constitution (Scheduled Castes) Order, 1950)। এই আইন অনুযায়ী, এসসি মর্যাদা বা সংরক্ষণ ধর্মনির্ভর। শুধুমাত্র হিন্দু, পরে সংশোধনে শিখ ও বৌদ্ধদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এতে। অর্থাৎ, স্বইচ্ছায় ধর্ম পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সংরক্ষণ সুবিধাও শেষ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।

–

–

–

–

–

–
