Friday, April 3, 2026

কুড়মি স্বীকৃতির দাবিতে নীরব বিজেপি! জয়পুরের সভা থেকে তোপ অভিষেকের, নিশানা বিরোধী প্রার্থীকেও

Date:

Share post:

জয়পুর বিধানসভা কেন্দ্রের সভা থেকে কুড়মি সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবিকে সামনে রেখে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Benarjee)। তাঁর অভিযোগ, কুড়মি সম্প্রদায়ের ন্যায্য দাবি পূরণের বদলে বিজেপি ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। একই সঙ্গে বহিরাগত বিজেপি প্রার্থীকে নিশানা করে অভিষেক বলেন, ভোটের পরে জয়পুর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থীকে আর পাওয়া যাবে না। 

জয়পুরের সভায় অভিষেক (Abhishek Benarjee) বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে তফশিলি উপজাতি তালিকায় অন্তর্ভুক্তির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে কুড়মি সম্প্রদায়। এই দাবির প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে রাজ্য সরকার তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, রাজ্য মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব পাশ করিয়ে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি কুড়মালি ভাষাকে তফশিলি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। কুড়মালি ভাষাকে রাজ্য ভাষার মর্যাদা দিয়ে কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ পাঠানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। 

বিজেপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরাসরি বিজেপি নেতা অজিত মাহাতকে আক্রমণ করেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, ভোট ঘোষণার ঠিক আগে দিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেন অজিত মাহাত। কিন্তু সেখানে কুড়মি সম্প্রদায়ের দাবির কথা না তুলে নিজের ছেলের জন্য টিকিট নিশ্চিত করতেই তিনি ওই বৈঠক করেছেন বলে অভিযোগ তোলেন অভিষেক। তাঁর কথায়, হাজার হাজার কুড়মি সম্প্রদায়ের মানুষের ন্যায্য অধিকার নিয়ে কথা বলার বদলে বিজেপি নেতৃত্ব শুধুমাত্র ভোট রাজনীতিতে ব্যস্ত। তৃণমূলের সেনাপতি বলেন, “বিজেপি সমর্থিত প্রার্থীর বাড়ি বাঘমুন্ডিতে। এখানে তিনি থাকেন না। নিজের কোনও স্বতন্ত্র পরিচয় নেই। বাবা অজিত মাহাতোর পরিচয়ে বিজেপি সমর্থিত প্রার্থী হয়ে দাঁড়িয়েছেন।” অজিত মাহাতোকে নিশানা করে অভিষেক বলেন, “অজিতবাবু নিজের ছেলের টিকিটের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে গিয়ে সমঝোতা করে এসেছেন।”
আরও খবরবাইরে থেকে ট্রেনে-বাসে লোক আনা হচ্ছে: সতর্ক করলেন মমতা, শাহের বাংলায় থাকার বাসনাকে তীব্র কটাক্ষ

অভিষেক জানান, কুড়মি সম্প্রদায়ের উন্নয়নে রাজ্য সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। তাঁদের ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচয়কে মর্যাদা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কুড়মি সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবিকে গুরুত্ব দিয়েই কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ পাঠিয়েছেন বলেও জানান তিনি। অভিষেকের কথায়, “আমরা গতবার প্রার্থী দিতে পারিনি। তার পরেও সব সরকারি যোজনার টাকা এখানকার মানুষ পাচ্ছেন।”

Related articles

ভবানীপুরে শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ RO, নিয়ম ভেঙে দায়িত্বে আধিকারিকরা: CEO-কে প্রশ্ন তৃণমূলের

নির্বাচনের আগে নির্বাচনী আচরণবিধির দোহাই দিয়ে যেভাবে রাজ্যের প্রশাসন ও পুলিশ পদে বদল করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election...

লক্ষ্ণণের চিঠিতে বড় দায়িত্বের খবর সৌরিশসকে, বঙ্গ ক্রিকেটে খুশির হাওয়া

বাংলা ক্রিকেটের জন্য সুখবর। বিসিসিআইয়ের কোচিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন সৌরাশিস লাহিড়ী (Sourashish lahiri)। ‘ইমার্জিং ইন্ডিয়া’র কোচ হিসাবে নির্বাচিত...

ভোটার কারচুপিতেই ক্ষমতায় চন্দ্রবাবু! মধ্যরাতে ১৭ লক্ষ ভোট, প্রশ্ন প্রভাকর-প্রশান্ত-কুরেশির

বাংলায় নির্বাচনের আগে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার দলীয় কর্মী, এজেন্টদের সতর্ক করছেন, যাতে তাঁরা ভোট শেষ হওয়ার...

হারের পরেই রাহানের নিশানায় ইডেনের পিচ, ফের শুরু সংঘাত!

ঘরের মাঠে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে হারতেই ফের পিচ নিয়ে সংঘাত শুরু সিএবি(CAB)-কেকেআরের(KKR)। ইডেনের (Eden) উইকেট আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে।...