বাংলা-বিরোধী বিজেপিকে ভোকাট্টা করে বাড়ি পাঠাবে বাংলার মানুষ। দিল্লির জল্লাদ আর গুজরাতের জমিদাররা নয়, বাংলার মানুষই বাংলার ভাগ্য নির্ধারণ করবে! বীরভূমের ঐতিহ্যবাহী মাটিতে দাঁড়িয়ে শনিবাসরীয় দুপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুঙ্কার, বীরভূম জেলা থেকে তৃণমূলের পক্ষে ১১-০ হওয়া কেবল সময়ের অপেক্ষা! এদিন তারাপীঠ মন্দির সংলগ্ন কড়কড়িয়া মোড়ে হাসন বিধানসভার প্রার্থী ফয়জুল হক ওরফে কাজল শেখের সমর্থনে জনসভা থেকে জয়ের জন্য ৫০ হাজারের ব্যবধান বেঁধে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। গত ৫ থেকে ১৫ বছরে হাসন, আসানসোল কিংবা বীরভূম জেলার জন্য তৃণমূল সরকারের উন্নয়নের বিপুল খতিয়ান তুলে ধরেন অভিষেক।

হাসন বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী কাজল শেখ। তাঁকে নিয়ে এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কাজল শেখ নিজেই কেন্দ্রীয় সরকারের এসআইআরে বৈষম্যের শিকার! তাঁর নিজের নাম আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন ছিল। অথচ জেলা পরিষদের সভাধিপতি হিসেবে বীরভূম জেলার একাধিক উন্নয়নের কাজ তিনি করেছেন। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে পানীয় জলের পরিষেবায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে জেলা পরিষদের তরফে। আর অন্যদিকে, বিজেপির প্রার্থী নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়। মানুষের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগ নেই। হুমকি দেওয়া আর দাঙ্গা বাঁধানো ছাড়া আর কোনও কাজ করেন না।
ভোটের ব্যবধান নিয়ে অভিষেকের ব্যাখ্যা, ২০২১ সালে হাসনে প্রায় ৫০ হাজারের ব্যবধানে জিতেছিল তৃণমূল। লোকসভা নির্বাচনেও বোলপুর এবং বীরভূম কেন্দ্রে আমাদের ব্যবধান বেড়েছিল। কিন্তু তুলনামূলক ব্যবধান ৫০ হাজার থেকে কমে ৩৮ হাজার হয়েছিল। গতবার শুধু দুবরাজপুর বিধানসভায় আমরা পরাজিত হয়েছিলাম। এবার বীরভূম জেলা থেকে তৃণমূলের পক্ষে ১১-০ হওয়া কেবল সময়ের অপেক্ষা। হাসন বিধানসভায় ৫০ হাজারের বেশি ব্যবধানে তৃণমূল প্রার্থীকে জেতাতে হবে। কারণ, এবারের নির্বাচন প্রতিবাদ, প্রতিরোধ এবং প্রতিশোধের নির্বাচন!

আগামী সপ্তাহে বীরভূমে সভা করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে অভিষেকের খোলা চ্যালেঞ্জ, প্রধানমন্ত্রী নাকি ৯ তারিখ বোলপুর বা সিউড়িতে সভা করবেন। আসুন, বাংলায় আপনাকে স্বাগত! কিন্তু ভোট এলেই পরিযায়ী পাখিদের মতো আসেন আর ভোট শেষ হলেই টাটা বাই বাই! দেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমার চ্যালেঞ্জ, গত পাঁচ বছরে বীরভূমের উন্নয়নে কী অবদান রেখেছেন, সেই রিপোর্ট কার্ড নিয়ে এখানে সভা করতে আসবেন! এরপরই যুদ্ধের বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিজেপির অভিষেকের তোপ, তারাপীঠ রাজ্যের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আসেন। আর এলপিজি গ্যাসের সংকটে আজকে হোটেলগুলো বন্ধ হতে চলেছে! রান্নাবান্না বন্ধ। বাজারে নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া। মোদি সরকার ৪০০-৫০০ টাকার রান্নার গ্যাস ১ হাজার টাকায় বিক্রি করে গরিব মানুষের পকেট কাটছে!

আরও পড়ুন – ভোটযুদ্ধে নজরে মালদহ, তৃণমূল সভানেত্রীর রোড-শো-এ ইংরেজবাজারে জনসমুদ্র

_

_

_
_
_
_
