সাধারণ মানুষের পকেটে টান দিয়ে ফের মহার্ঘ হল এলপিজি সিলিন্ডার। ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়মে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছে। পশ্চিম এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এই নিয়ে গত কয়েক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার দাম বৃদ্ধি পেল। মূলত ৫ কেজির সিলিন্ডার বা যা সাধারণ মহলে ‘ছোটু’ নামে পরিচিত, তার দামই একলাফে অনেকটাই বাড়ানো হয়েছে।

এপ্রিলের শুরু থেকেই ৫ কেজির এই সিলিন্ডারের দাম বাড়ছে ৫১ টাকা। আগে এই সিলিন্ডারটি পাওয়া যেত ৬৪৯ টাকায়, এখন তা একধাক্কায় ৭০০ টাকার ঘরে পৌঁছে গেল। বাজার বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত পরিবারগুলিতে যখন ১৪.২ কেজির বড় সিলিন্ডার কেনার সামর্থ্য কমে বা বাজারে বড় সিলিন্ডারের সংকট দেখা দেয়, তখন এই ছোট সিলিন্ডারের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সেই সুযোগেই কি এই দাম বৃদ্ধি? প্রশ্ন তুলছেন আমজনতার একাংশ।

বাজারে বর্তমানে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডার এবং ১৪.২ কেজির ঘরোয়া সিলিন্ডারের সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ‘ছোটু’ সিলিন্ডারটি সাধারণ মানুষের কাছে বড় ভরসা। ইন্ডিয়েন বা এইচপি-র মতো সংস্থাগুলির এই ছোট সিলিন্ডার পেতে কোনও ঠিকানার প্রমাণ বা দীর্ঘ কেওয়াইসি প্রক্রিয়ার প্রয়োজন পড়ে না। সহজেই বহনযোগ্য হওয়ায় ছাত্রছাত্রী বা অস্থায়ী কর্মীদের কাছে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়।

ইন্ডিয়েনের ‘ছোটু’ এবং এইচপি গ্যাসের ‘আপ্পু’—এই দুই ধরনের সিলিন্ডারই এখন শহর থেকে গ্রামগঞ্জের ছোট ছোট আউটলেটে পাওয়া যায়। তবে কোনো ঝক্কি ছাড়াই হাতে পাওয়া গেলেও, নতুন করে ৫১ টাকা দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। উৎসবের মরসুমের ঠিক পরেই মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এল গ্যাসের এই মূল্যবৃদ্ধি। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দাম কমার কোনো সম্ভাবনা এখনই দেখছেন না সংশ্লিষ্ট মহল।

আরও পড়ুন- বিজেপির বহিরাগত জমিদারদের দফারফা! জয়ের নিরিখে সাতগাছিয়াকে নতুন টার্গেট দিলেন অভিষেক

_

_

_

_
_
_
