রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আবহে শান্তি বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের মনে আস্থা ফেরাতে বিশেষ তৎপরতা শুরু করল নবান্ন। মঙ্গলবার মুখ্যসচিবের দফতর থেকে জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে একযোগে মাঠে নামার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূল লক্ষ্য, অতীতের ভোট পরবর্তী বা প্রাক-নির্বাচন হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে প্রশাসনের উপস্থিতি জোরালো করা।

মুখ্যসচিবের জারি করা ওই নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, জেলা শাসক (ডিএম), জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিও), পুলিশ কমিশনার (সিপি) এবং পুলিশ সুপারদের (এসপি) যৌথভাবে সংবেদনশীল এলাকাগুলি চিহ্নিত করতে হবে। বিশেষত, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোট এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যেসব এলাকায় অশান্তি, হিংসা বা ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছিল, সেই জায়গাগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নবান্নের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই জেলা প্রশাসন ও পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের ওই চিহ্নিত এলাকাগুলি সরেজমিনে পরিদর্শন করতে হবে। তাঁদের সঙ্গে থাকবেন ডিস্ট্রিক্ট ফোর্স কোঅর্ডিনেটররাও। প্রশাসনের এই সফর যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার বার্তা পৌঁছায়, সেই কারণে এই পুরো প্রক্রিয়াটি সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিতে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আগামী ১৬ এপ্রিল বিকেল ৫টার মধ্যে এই যৌথ পরিদর্শনের রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছেন মুখ্যসচিব। পাশাপাশি, ভোটের দিন যাতে দ্রুত খবরাখবর আদানপ্রদান করা যায়, তার জন্য প্রতিটি বুথে নিশ্ছিদ্র যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বলা হয়েছে। মোবাইল টাওয়ার না থাকলেও যাতে স্যাটেলাইট ফোন বা ওয়্যারলেস বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করা যায়, সেই পরিকাঠামো তৈরির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, অতীত অভিজ্ঞতার নিরিখে এবার আগেভাগেই সক্রিয় হয়ে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাইছে রাজ্য প্রশাসন।

আরও পড়ুন- ছত্তিশগড়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ঝলসে মৃত একাধিক, আহত বহু

_

_

_

_
_
_

