নির্বাচন কমিশন (Election Commission) প্রথম দফার ভোটের আগে ইভিএম (EVM) ও ভিভিপ্যাটের (VVPAT) চূড়ান্ত প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার থেকে রাজ্যের বিভিন্ন কেন্দ্রে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, ২৩ এপ্রিল যেসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। সেই সব জায়গাতেই প্রার্থীদের বা তাঁদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই প্রস্তুতি ও পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি উপস্থিত থাকছেন সাধারণ পর্যবেক্ষকরাও। এই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট সংখ্যক ইভিএমে মক পোল করা হবে। মোট মেশিনের ৫ শতাংশ বেছে নিয়ে তাতে ১০০০ ভোট দিয়ে পরীক্ষা করা হবে। প্রার্থীরা চাইলে নিজেরাই এই মক পোল প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন বলে জানিয়েছে কমিশন। ভোটের আগে ইভিএম বণ্টনের ক্ষেত্রেও কড়া স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়েছে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, দুই ধাপে র্যান্ডমাইজেশন পদ্ধতিতে মেশিন বণ্টন করা হয়েছে। প্রথম ধাপে জেলা স্তরের গুদাম থেকে বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে ইভিএম পাঠানো হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে সেই কেন্দ্রগুলি থেকে পৃথক বুথে মেশিন বণ্টন করা হয়েছে। প্রথম দফায় পশ্চিমবঙ্গে মোট ৪৪,৩৭৮টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। প্রতিটি কেন্দ্রেই নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ইভিএম–ভিভিপ্যাট প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। কমিশন জানিয়েছে, র্যান্ডমাইজেশনের প্রতিটি তালিকা রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে। সমস্ত ইভিএম ও ভিভিপ্যাট কড়া নিরাপত্তায় নির্দিষ্ট স্ট্রং রুমে রাখা হয়েছে। আরও পড়ুন: ভোটার তালিকায় নাম Delete! সপরিবারে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন

এছাড়াও, ওয়েবকাস্টিং ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে কড়া অবস্থান নিচ্ছে কমিশন । রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের তরফে মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকদের এবিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়েছে, রাজ্যে মোট ৬৪২টি ‘শ্যাডো জোন’ চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে স্বাভাবিক ওয়েবকাস্টিংয়ে সমস্যা হতে পারে। এর মধ্যে ইতিমধ্যেই ২৬২টি জোনে বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, ফরাক্কা ও আলিপুর এলাকায় সবচেয়ে বেশি শ্যাডো জোন রয়েছে। এই সমস্ত এলাকায় বিশেষ ক্যামেরা বসানো হচ্ছে, যাতে সিম কার্ড ব্যবহার করে সরাসরি সংযোগ বজায় রাখা যায়। ফলে মনিটরিংয়ে কোনও বিঘ্ন ঘটবে না বলেই কমিশনের দাবি। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট জওয়ানকে সাসপেন্ড করা থেকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে। নজরদারি আরও জোরদার করতে ইসিআই সদর দফতর এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের অফিসে বিশেষ স্ক্রিন বসানো হচ্ছে। প্রতিটি রিটার্নিং অফিসারের জন্য আলাদা মনিটরিং স্ক্রিন থাকবে। এই পুরো ব্যবস্থার তদারকিতে ১৫ থেকে ২০ জন আইপিএস আধিকারিককে নিয়োগ করা হচ্ছে। এ বার নির্বাচনে AI-এর ব্যবহারও বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। ওয়েবকাস্টিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে বুথের পরিস্থিতি রিয়েল টাইমে বিশ্লেষণ করা হবে। কোনও বুথে চারজনের বেশি ভোটার একসঙ্গে উপস্থিত থাকলে তা সঙ্গে সঙ্গে নজরে আসবে। একই ভাবে ইভিএমের কাছে একজনের বেশি লোক থাকলেও সতর্কবার্তা পাঠানো হবে।

–

–

–

–

–

–
–
–
