জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তৈরি করা জটিলতায় শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট তাদের সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করল বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে। বাংলার বৈধ ভোটারদের ভোটাধিকার রক্ষায় নির্বাচন কমিশনের সম্পূর্ণ ভোটার তালিকা প্রকাশের সময়সীমাকে বাড়িয়ে দিতে সংবিধানের ১৪২ ধারা (Article 142) প্রয়োগ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। যার ফলে প্রথম দফার নির্বাচনে ২১ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ২৭ এপ্রিল সাপ্লিমেন্টারি তালিকা (supplementary voter list) প্রকাশ করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে (ECI)। এবং সেই অনুযায়ী ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন বাংলার ভোটাররা। বাংলার মেঝো ভোটারদের ভোটাধিকার রক্ষার জন্য যে লড়াই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নিজে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) দাঁড়িয়ে করেছিলেন তার ফলস্বরূপ এবার কমিশনের ভুলে বাদ পড়া অসংখ্য ভোটার নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগে সক্ষম হবেন।

নির্বাচন কমিশন যেভাবে বাংলার ভোটারদের লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির (logical discrepancy) তালিকায় ফেলে ভোটাধিকার খারিজের পথে হেঁটেছিল তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বাংলার মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার লড়াইতে সুপ্রিমকোর্টে গিয়ে শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পষ্ট করে তুলে ধরেছিলেন নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়ার ভুলগুলি, যার কারণে ন্যায্য ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বাংলার কয়েক লক্ষ মানুষ। সুপ্রিম কোর্ট সর্বশেষ শুনানিতে বাংলার লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ প্রশ্ন তুলেছিল, দেশের কোনও রাজ্যের ক্ষেত্রে যে লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি তালিকা তৈরি করা হয়নি, তা শুধুমাত্র বাংলার জন্য কেন হয়েছে।

১৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টে কলকাতা হাই কোর্ট জানিয়েছিল রাজ্যের প্রায় ৩৫ লক্ষ মানুষ অ্যাপালেট ট্রাইবুনালে আবেদন করেছিলেন ১১ এপ্রিল পর্যন্ত। এই আবেদনকারীরা বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের শুনানিতে নাম বাদ পড়া ভোটার ছিলেন। অথচ তখনও কলকাতা হাই কোর্টের অ্যাপালেট ট্রাইবুনাল (Appellate Tribunal) কাজ শুরুই করেনি নির্বাচন কমিশনের ঢিলেঢালা মনোভাবের কারণে। সেখানেই বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি (Justice Joymalya Bagchi) প্রশ্ন তুলেছিলেন, ভোটার শতাংশ ও জয়-পরাজয়ের শতাংশ নিয়ে। সেক্ষেত্রে ভোটের ফলাফলের পরে আবার মামলা হওয়া নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (CJI Surya Kant)।

সেই শুনানিতেই সংবিধানের ১৪২ ধারা প্রয়োগের ইঙ্গিত দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই ক্ষমতা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নিয়ম বদলাতে পারে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষদিন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা প্রকাশের নির্বাচন কমিশনের যে ক্ষমতা ছিল, সেই নিয়ম বদলে ফেলারও ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে সুপ্রিম কোর্ট। এমন ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল, যখন বিচারপতিরা জানিয়েছিলেন, ট্রাইবুনালের বিচারপতিরা সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে পারবে।

আরও পড়ুন : ট্রাইবুনালে ‘পাস’ করলে কি হবে ভোটারদের: নজিরবিহীন পদক্ষেপের ভাবনা সুপ্রিম কোর্টের

শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার সেই ক্ষমতাই প্রয়োগ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। নির্দেশ জারি করে জানানো হল – প্রথম দফার ২৩ এপ্রিলের নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ট্রাইবুনালে (Appellate Tribunal) যাঁদের নাম ন্যায্য ভোটার হিসাবে বিবেচিত হবে, তাঁরা ২৩ তারিখ ভোট দিতে পারবেন। একইভাবে দ্বিতীয় দফার ২৯ এপ্রিল নির্বাচনের জন্য ২৭ এপ্রিল সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় যে ভোটাররা ন্যায্য বলে তালিকাভুক্ত হবেন, তাঁরা দ্বিতীয় দফায় ভোট দিতে পারবেন।

–

–
–
–
