নিজেদের রাজ্যে ডাহা ফেল বিজেপির (BJP) “ডবল ইঞ্জিন” সরকার! বাংলায় ভোট প্রচারে বিজেপির মূল বিষয় নারী সুরক্ষা আর এদিকে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে একাধিক নারী নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসছে প্রতিদিন। বিজেপি শাসিত প্রত্যেকটা রাজ্যে নিকৃষ্ট মানের মানসিকতা পুষে রেখেছে সরকার! কিন্তু সেই সময়ে চুপ প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এবার মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) ঝাবুয়া জেলায় স্বামীর অত্যাচারে নাজেহাল হয়ে নিজের মত বাঁচতে চেয়েছিলেন মহিলা। কিন্তু প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার অপরাধের ‘শাস্তি’ পেতে হয়েছে তাঁকে। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়াতে সেই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। (যদিও ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি জাগো বাংলা)। ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে ওই মহিলার মাথা মুড়িয়ে তাঁকে তাঁর স্বামীকে কাঁধে বহন করতে বাধ্য করা হয়েছে। সেখানকার অবৈধ ভিল পঞ্চায়েত মহিলাকে এই শাস্তি দিয়েছে বলে জানা যায়।
ঝাবুয়া জেলার কাকানওয়ানি এলাকার বালাওয়াস গ্রামে একটি অবৈধ আদিবাসী পঞ্চায়েতের নির্দেশে মহিলাকে এই শাস্তি দেওয়া হয়। কার্যত জোর করে তাঁর মাথা মুড়িয়ে স্বামীকে কাঁধে চাপিয়ে পুরো গ্রাম হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সময়ে কয়েকজন তাঁকে লাঠি দিয়েও মারধর করেন বলেও অভিযোগ করা হয়। ঝাবুয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিএস মহাবিয়া এই ঘটনা প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পরেই এই ঘটনা সম্পর্কে পুলিশ জানতে পারে। এই নিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই মহিলা। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে মহিলার স্বামী-সহ চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এখনও ৬ জন অভিযুক্ত পলাতক। তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

উল্লেখ্য, স্থানীয়রা জানিয়েছেন বছর দশেক আগে ওই মহিলার বিয়ে হয়। এরপর তাঁর দু’টি সন্তানও হয়। কিন্তু মহিলাকে বহুদিন ধরেই নির্যাতন করছিলেন তাঁর স্বামী। সহ্যের সীমা পেরিয়ে গেলে ওই মহিলা অন্য গ্রামে গিয়ে তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। এই ঘটনা জানার পরে ওই ব্যক্তিকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয় ওই অবৈধ পঞ্চায়েতের তরফ থেকে। উপায় না দেখে ওই টাকা দেওয়ার পরে মহিলাকে গ্রামে পাঠিয়ে দেন তিনি। কিন্তু তারপরেই ওই মহিলাকে গ্রামীণ পঞ্চায়েত এবং মাতব্বররা চরম শাস্তি দেওয়ার বিধান দেয়। এখানেই প্রশ্ন উঠছে বিজেপি কী এবার এই মহিলার স্বপক্ষে ন্যায়বিচার চাইবে নাকি মুখ লুকোবে? আরও একবার প্রমাণিত হল বিজেপির শাসনে আক্রান্ত নারী।

–

–

–

–
–
