প্রবল হট্টগোল আর বিরোধিতার মাঝেই সংসদের বিশেষ অধিবেশনে মহিলা সংরক্ষণ (Women’s reservation), আসন পুনর্বিন্যাস বিল (Delimitation Bill) ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল (Union Territories Laws Amendment Bill)পেশ হল। সংখ্যার আধিক্যের দাদাগিরিতে এর আগেও বারবার নিজেদের ইচ্ছে মতো বিল পেশ ও পাশ করাতে দেখা গেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে। বৃহস্পতিবার অধিবেশনের শুরুতেই মহিলা সংরক্ষণ বিল পেশের বিরোধিতা করে I.N.D.I.A, সংবিধান সংশোধনী বিল পেশের জন্য ভোটাভুটির দাবি জানান কংগ্রেস সাংসদ কে সি ভেনুগোপাল। কিন্তু প্রাথমিকভাবে স্পিকার ওম বিড়লা (Om Birla) তা নাকচ করে দেন। এরপর তুমুল হট্টগোল শুরু হয়।তিনটি বিলকে একসঙ্গে পেশ করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন বিরোধীরা। স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ করতে থাকেন। তাঁদের মাইক বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। কিন্তু তারপরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হন স্পিকার এবং বাধ্য হয়ে ভোট করানোর জন্য রাজি হন তিনি। এই বিল প্রসঙ্গে এক্স হ্যান্ডেলে রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন লেখেন, ‘বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের ডিলিমিটেশন বিলের চক্রান্ত ফাঁস হয়ে গেছে। আমরা নিশ্চিত ওরা ব্যর্থ হবে।’ আরও পড়ুন: ফের ৪০০০ শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশপত্র এসএসসির

কেন্দ্রের প্রস্তাবিত ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ অর্থাৎ মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংশোধনী বিল, লোকসভার সাংসদ সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করার জন্য আসন পুনর্বিন্যাস বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল পেশের পক্ষে এদিন ভোট পড়ে ২০৭টি, বিপক্ষে ১২৬টি। আজ ইন্ডিয়া ও NDA শিবিরের বহু সাংসদ অনুপস্থিত ছিলেন বলে খবর। বিল পেশের পর এই দিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে লোকসভায় (Loksabha takes up discussion on bills)। আজ ও কাল বিস্তারিত আলোচনা হবে। এরপর শুক্রবার বিকেল এই তিন বিল পাশ করাতে ভোটাভুটি হবে বলে জানা গেছে। এদিনের মতো মুলতুবি হয়ে গেছে রাজ্যসভা। এর আগে ২০২৩ সালে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বিল পাশ হয়েছিল সংসদে। বলা হয়েছিল, জনগণনার পর আসন পুনর্বিন্যাস হবে। কিন্তু এখন সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে রাজি নয় কেন্দ্র। মোদি সরকার চাইছে, ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করতে। এত তাড়া কীসের, খোঁচা বিরোধীদের। যদিও বিল পেশের বিরোধিতার জন্য I.N.D.I.A – এর তরফে এদিন পর্যাপ্ত সংখ্যা ছিল না। অংকের হিসেব বলছে, ভোটাভুটিতে বিলটি পেশ হলেও সেটি পাশ করাতে সাংসদদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। কারণ লোকসভার মোট আসন সংখ্যা ৫৪৩। সে ক্ষেত্রে বিল পাস করাতে হলে পক্ষে অন্তত ৩৬২ টি ভোট প্রয়োজন। NDA-এর মোট সাংসদ সংখ্যা এই মুহূর্তে ২৯৩। অন্যদিকে I.N.D.I.A – এর সংসদ রয়েছেন ২৪০ জন। খুব স্বাভাবিকভাবেই বিরোধীদের সমর্থন না পেলে এই বিলগুলো পাস করাতে পারবেনা কেন্দ্র। তাই এক্ষেত্রে জোটের সদস্যদের একজোট হওয়া দরকার বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। ভোটাভুটির দিন অর্থাৎ শুক্রবার সাংসদদের উপস্থিতির সংখ্যার উপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।

–

–

–

–

–

–
–
–
