দেশের ডিলিমিটেশন ব্যবস্থাকে চক্রান্ত করে লোকসভায় পাশ করার চেষ্টা করেছিল কেন্দ্রের স্বৈরাচারী বিজেপি সরকার। মহিলা সংরক্ষণ বিলের আড়ালে ডিলিমিটেশন করে লোকসভায় ৮৫০ আসন করার অপচেষ্টা করেছিল বিজেপি। তবে শুক্রবার সংসদে ভোটাভুটিতে পাসই করতে পারল না বিজেপির ডিলিমিটেশনের চক্রান্ত। বিল পাসের জন্য প্রয়োজনীয় দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল না বিজেপি। ফলে নতুনভাবে নিয়ে আসা মহিলা সংরক্ষণ বিল ও ডিলিমিটেশন বিল পাস হল না লোকসভায়।

মূলত সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে মহিলা সংরক্ষণ সংশোধন বিল পাস করার পথে হেঁটেছিল কেন্দ্রের স্বৈরাচারী বিজেপি সরকার। লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ পর্যন্ত করার প্রস্তাব ছিল। যা নির্ণয়ের জন্য ডিলিমিটেশন কমিশন তৈরি করে রাজ্যগুলির আসন সংখ্যা বাড়ানোর পথে হাঁটছিল কেন্দ্র সরকার। যেখানে কোন অনুপাতে সেই আসন নির্ধারিত হবে, তা স্পষ্ট করে জানানো হয়নি প্রস্তাবে।

এই ডিলিমিটেশন নির্ধারিত হয়ে যাওয়ার পর লোকসভার আসন রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে ৮১৫ পর্যন্ত এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির ক্ষেত্রে ৩৫ পর্যন্ত বাড়ার পরই লাগু হত মহিলা সংরক্ষণ সংশোধিত বিল। চলতি ৫৪৩ আসনে মহিলা সংরক্ষণ করার পথে হাঁটেনি কেন্দ্রের মোদি সরকার। অথচ ২০২৩ সালে এই ৫৪৩ আসনেই মহিলা সংরক্ষণ বিলে স্বাক্ষর করেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।

তবে শুক্রবার কেন্দ্র সরকারের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় সংসদের নিম্নকক্ষে। ৫৪৩ জন সাংসদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৫২৮ জন সদস্য। তার মধ্যে ২৯৮ জন সংবিধান সংশোধন বিলের পক্ষে ভোটদান করেন। এবং ২৩০ জন এর বিপক্ষে ভোট দেন। অন্তত ৩৬২ ভোটের প্রয়োজন ছিল এই পাস করার জন্য।

আরও পড়ুন : চাপ বুঝে সংশোধনী নিয়ে ভোটাভুটির আগেই মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর মোদি সরকারের

পর্যাপ্ত ভোট সংখ্যা না থাকায় বিল পাস হল না, বলেই জানিয়ে দেন স্পিকার ওম বিড়লা। প্রথম থেকেই বিরোধীরা দাবি করেছিলেন তাঁরা মহিলা সংরক্ষণ বিলের পক্ষে। যে ৫৪৩ আসনে মহিলা সংরক্ষণ বিল ২০২৩ সালে পাশ হয়েছিল, তাতেই তাঁরা সম্মতি জানিয়েছিলেন। কিন্তু একযোগে ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলির সাংসদরা ডিলিমিটেশন বিলের বিরোধিতা করেন। কার্যত বিজেপির আত্মম্ভরিতার দাবির নাকে ঝামা ঘষে দিয়ে বিরোধীরাই এই বিলের ক্ষেত্রে জয়ী হলেন শুক্রবার।

–

–
–
–
