বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট নেওয়ার পর্বে বেনজির অনিয়মের অভিযোগ উঠল মহিষাদলে। এক দৃষ্টিহীন বৃদ্ধার ভোট তাঁর নাবালক নাতিকে দিয়ে দেওয়ানোর অভিযোগ উঠল খোদ প্রিজাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধে। শনিবার দুপুরে মহিষাদল বিধানসভার নাটশাল-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ১০৭ নম্বর বুথের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অনিয়মের প্রতিবাদে সরব হয়ে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মহিষাদলের তৃণমূল প্রার্থী তিলক চক্রবর্তী।

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, বর্তমানে বয়স্ক এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য বাড়িতে গিয়ে ভোট নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সেই মতোই শনিবার ওই বুথের বাসিন্দা ৯৫ বছরের বৃদ্ধা দুর্গা দাসের বাড়িতে ভোট নিতে যান প্রিজাইডিং অফিসার মৌসুমী বেরা খাঁড়া ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। বৃদ্ধার পরিবারের দাবি, বার্ধক্যজনিত কারণে দুর্গাদেবী চোখে দেখতে পান না। তাই বরাবরই তাঁর ছায়াসঙ্গী হিসেবে ভোট দেন পুত্রবধূ কল্যাণী দাস। অভিযোগ, এদিন কল্যাণীদেবী ভোট দিতে চাইলে তাঁকে বাধা দেন ভোটকর্মীরা। উল্টে বৃদ্ধার আট বছর বয়সি নাতিকে দিয়ে ভোট দেওয়ানো হয়।

এই খবর জানাজানি হতেই এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা বেশ কিছুক্ষণ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, দুর্গাদেবী একনিষ্ঠ তৃণমূল সমর্থক। তাঁদের অভিযোগ, স্থানীয় বিডিও বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই এমন বেআইনি কাজ করিয়েছেন। তৃণমূল প্রার্থী তিলক চক্রবর্তীর কথায়, এটি সম্পূর্ণ অনৈতিক ও বেআইনি। বিডিও বিজেপির দালালি করছেন। আমরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি।

যদিও যাবতীয় অভিযোগের মুখে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক তথা জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার এক বিতর্কিত সাফাই দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ‘কম্প্যানিয়ন ভোটার’ বা সহায়তাকারী হিসেবে ভোটার তালিকায় নাম নেই এমন ব্যক্তি অর্থাৎ নাবালকরা ভোট দিতে পারে। সেই নিয়মেই ওই বৃদ্ধার হয়ে নাবালক ভোট দিয়েছে। তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় ঘাসফুল শিবির। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দাবি তুলে প্রিজাইডিং অফিসারের শাস্তির দাবি জানিয়েছে তারা। দিনের শেষে মহিষাদলের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত জেলার রাজনৈতিক পরিবেশ।

আরও পড়ুন- হিম্মত থাকলে সামনে এসে লড়ুন, ব্যাকডোর দিয়ে এজেন্সি কেন? বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ তৃণমূলনেত্রীর

_

_

_
_
_
_
