“গ্রেফতারি পরোয়ানার প্রসঙ্গে এখনও পর্যন্ত প্রতিক্রিয়া দেওয়ার মতো কোনও পোক্ত তথ্য আমার হাতে নেই। বন্ধুবান্ধব সাংবাদিকদের কাছ থেকে যেটুকু জানতে পারছি তাতে মনে হচ্ছে গলা খুলে মাথা তুলে কথা বলা তো আমাদের সমাজে অন্যায় হিসেবে বিচার করা হয়, এটা হয়তো আমার বেশি হয়েছে। তাই মাশুল দিতে হবে।”- পুরনো মামলায় গ্রেফতারির পরোয়ানা (Arrest warrant) প্রসঙ্গে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া দিলেন শ্রীজাত (Srijato)। শুধু তাই নয় প্লেটোর উদ্ধৃতি উল্লেখ করে গোটা বিষয়টিকে কটাক্ষও করেছেন কবি।

বুধবার সকালে আচমকা জানা যায় স্বনামধন্য কবি শ্রীজাতর বিরুদ্ধে কবিতা সংক্রান্ত বিষয়ে বিজেপি ও হিন্দু পরিষদের দায়ের করা একটি পুরনো মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এর নেপথ্যে যে মূলত নির্বাচন কমিশন (ECI) রয়েছে তা কার্যত স্পষ্ট। আর কমিশন কার নির্দেশে কাজ করছে সেটা সকলেই জানেন। ভোটের মুখে এভাবে বিশিষ্ট সাহিত্যিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা নিঃসন্দেহে নজিরবিহীন। প্রতিবাদে সরব রাজনীতি থেকে সাংস্কৃতিক জগতের সকলেই। এই প্রসঙ্গে শ্রীজাতকে জিজ্ঞেস করা হলে তাঁর কটাক্ষ, “প্লেটো বলেছিলেন আদর্শ রাষ্ট্রে কবির কোনও জায়গা হতে পারে না। হয়তো আমরা সেই আদর্শ রাষ্ট্র হওয়ার দিকে এগোচ্ছি।” শ্রীজাত আরও জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত তিনি এই গ্রেফতারি পরোয়ানা সংক্রান্ত কোনও বিস্তারিত তথ্য হাতে পাননি। সেই সবকিছু পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। সাধারণত চারপাশে ঘটতে থাকা নানা ঘটনার প্রতিবাদ বা সমালোচনায় নিজের কলমকে বেছে নেন কবি। রাজ্য তথা দেশজুড়ে যেভাবে ধর্মের নামে রাজনীতি করে সাম্প্রদায়িক অশান্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে গেরুয়া শিবির বারবার, তার বিরুদ্ধে নিজস্ব ভঙ্গিমায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন শ্রীজাত। তাই কি তিনি দেশের শীর্ষ নেতা এবং হিন্দুত্ববাদ নিয়ে মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টিকারী দলের বিরাগভাজন? কবির অপপট জবাব, “গলা খুলে মাথা তুলে কথা বলার মতো অন্যায়টা হয়তো বেশি করেছি, তাই এভাবেই তার মাশুল দিতে হচ্ছে আমাকে।”
–

–

–

–

–

–
–
–
