আজ থেকে ঠিক এক বছর আগে এই দিনটা চরম বিভীষিকাময় হয়ে উঠেছিল গোটা দেশের কাছে। চোখের সামনে ভূস্বর্গ ভেসে গেছিল রক্তে। জঙ্গিদের নৃশংসতায় কেঁপে উঠেছিল আপামর ভারতবাসী। আজ আরও এক ২২ এপ্রিল। পহেলগাম হামলার (Pahelgam attack) এক বছর পূর্ণ হল। শোক, দুঃখ আর অবিশ্বাসের দীর্ঘ যাত্রা, কিন্তু আজও মেলেনি বিচার। কেন্দ্রের মোদি সরকারের প্রতি একরাশ ক্ষোভ উগরে দিল মৃত বিতানের পরিবার। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারকে অন্তত পাশে পাবেন ভেবেছিলেন, কিন্তু তারা কথা রাখেনি। এক বছরে একবারের জন্যও খোঁজ নেয়নি। বিতানের পাটুলির বাড়িতে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও প্রতিনিধি যায়নি। পিতৃহারা সন্তান কেমন আছে, স্বামীকে হারিয়ে বিতানের স্ত্রীর কীভাবে দিন কাটছে, কেউ একবারের জন্যও জানতে আসেনি। ‘’যা করার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারই করেছে। গত বছর ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী নিজে বিতানের বাবা মায়ের হাতে ১০ লক্ষ টাকা তুলে দিয়েছিলেন। ১০ হাজার টাকার একটা মাসিক পেনশনের ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন। আমরা কৃতজ্ঞ।’’ এমনটাই জানিয়েছে বিতানের পরিবার।

প্রসঙ্গত, কাশ্মীরের পহেলগামে বৈসরণ উপত্যকা ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামেও পরিচিত। কিন্তু এতদিন পরেই সেটা জনশূন্য। নিরাপত্তাজনিত কারণে উপত্যকাটি জনসাধারণের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। গত বছরের ২২ এপ্রিল বৈসরণ উপত্যকায় হামলা চালায় জঙ্গিরা। এই হামলায় ছাব্বিশ জন নিরীহ মানুষ প্রাণ হারান যা শুধু দেশ নয়, গোটা বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল। পহেলগাঁওয়ের মৃত পর্যটক এবং স্থানীয় ঘোড়াচালক আদিল শাহের স্মরণে তৈরি করা হয়েছে কালো মার্বেলের এক স্মৃতিস্তম্ভ। এদিকে বাংলার ভোটে সাজো সাজো রব। আসছে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী, বাদ নেই বুলেট প্রুফ গাড়ি, বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার, শুধু তাই নয়, উড়ে বেড়াচ্ছে হেলিকপ্টার। একদিনে সর্বোচ্চ ৬১টি হেলিকপ্টারকে পথ দেখাতে হয়েছে কলকাতার এটিসি অফিসারদের যার ফলে একপ্রকার নাভিশ্বাস উঠছে তাঁদের। এখানেই প্রশ্ন উঠছে একটা ভোটকে কেন্দ্র করে এতো নিরাপত্তার বহর এদিকে কাশ্মীরের মত সংবেদনশীল জায়গায় সেদিন কেন একজন জওয়ান ছিলেন না? বাকি সুরক্ষাবিধি তো দূরে থাক। ঘটনার এতদিন পরেও নিরাপত্তার নজির দেখিয়ে দেশবাসীর সমালোচনার শীর্ষে মোদি সরকার।
–

–

–

–

–

–
–
–
