নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে বিজেপি যেন তেন প্রকারে বাংলা দখলে মরিয়া। যদিও তার মধ্যে বাঁধ সেধেছে বিরোধী দলনেতার দুই কেন্দ্র। একদিকে ভবানীপুরে (Bhawanipur) হার নিশ্চিত বুঝে পাততাড়ি গুটিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে নন্দীগ্রামেও (Nandigram) তাঁর অবস্থা টলমল। পবিত্র করের সমর্থনে তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) মিছিল ঘুম কেড়েছে শুভেন্দুর। তাই এবার কমিশনকে দিয়ে পছন্দমতো পুলিশ পর্যবেক্ষক (police observer) নন্দীগ্রামে বসিয়ে বেছে বেছে তৃণমূল কর্মীদের গ্রেফতারিই ভরসা তাঁরা। উদাহরণ তুলে ধরে নির্দিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের এই কুকীর্তি ফাঁস করল তৃণমূল কংগ্রেস।

কমিশন চলতি নির্বাচনে নন্দীগ্রামের পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে ইন্সপেক্টর অজয় মিশ্র ও ইন্সপেক্টর কুদরতে খোদাকে। তাঁরা ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে যথাক্রমে নন্দীগ্রাম ও হলদিয়ার ওসি ছিলেন। এবার সেই পুলিশ কর্তাদের দিয়ে কীভাবে একটু অক্সিজেনের খোঁজ পাচ্ছেন শুভেন্দু, তা তুলে ধরে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা দাবি করেন, বিজেপি কর্মী, গুণ্ডারা, মাসলম্যানদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ, ওয়ারেন্ট রয়েছে। তারপরেও নন্দীগ্রাম ওসি তাঁদের গ্রেফতার করছে না। তৃণমূল কর্মী যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে বা নেই তাঁদের তাৎক্ষণিক গ্রেফতার করা হচ্ছে। বিজেপি নেতা ঝন্টু রাও, অশোক রাওয়ের বিরুদ্ধে একাধিক গ্রেফতারি পরোয়ানা। তাদেরও গ্রেফতারির দাবি জানানো হয়েছে।
নন্দীগ্রামে জিততে এবার সব রকম পথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে রাজনৈতিকভাবে গুণ্ডাগিরি শুরু করেছে। অন্যদিকে প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে প্রকাশ্যে তৃণমূলের ভোট লুটের পথে শুভেন্দু। বুধবার নির্বাচন কমিশনে যে অভিযোগ তৃণমূল প্রতিনিধিদল জানায়, তার উল্লেখ করে শশী পাঁজা (Shashi Panja) দাবি করেন, শুভেন্দু বুঝে গিয়েছে হারবে। তাই গুণ্ডাদের নামিয়েছে। যখন তৃণমূলের তরফ থেকে অভিযোগ দায়ের হচ্ছে তখন তৃণমূল কর্মীদেরই (TMC worker) গ্রেফতার করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীও (Central Force) তৃণমূল কর্মীদের হেনস্থা করছে। নেতাদের হেনস্থায় কর্মীদের মনোবলে আঘাত হচ্ছে।

আরও পড়ুন : গদ্দারের জন্য তৃণমূলের দরজা চিরতরে বন্ধ! দেগঙ্গার সভা থেকে হুঙ্কার অভিষেকের

বাস্তবে যে ঘটনাগুলির ভিত্তিতে এই অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে তৃণমূলের তরফে তাও সাংবাদিক বৈঠকে তুলে ধরেন তৃণমূল মুখপাত্র ঋজু দত্ত। তিনি উল্লেখ করেন, নন্দীগ্রামের বাসিন্দা মানিক গায়েন দাস বিজেপির গুণ্ডা, শুভেন্দুর পোষ্য। নিজের স্ত্রীকে খুন করে। বলে তৃণমূল খুন করেছে। কিন্তু প্রমাণিত হয়ে গিয়েছে সে নিজেই খুন করেছে স্ত্রীকে। আবার, মহম্মদপুর তৃণমূলের প্রধান শেখ হাবিবুল। প্রচারের সময়ে বিজেপির গুণ্ডারা ঘিরে ধরে গালিগালাজ করে জামাকাপড় ছিঁড়ে দেয়। পুলিশে খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে শেখ হাবিবুলকে গ্রেফতার করে। যে দুই পুলিশ পর্যবেক্ষকদের (police observer) কথা বলা হল, সেই পর্যবেক্ষকরা খুঁজে খুঁজে তৃণমূল নেতাদের (TMC workers) গ্রেফতার করছে।

–

–

–
–
–
