”প্রথম দফায় তৃণমূল সেঞ্চুরি পার করে দিয়েছে। আমি রাজনৈতিক ভবিষ্যদ্বাণী করি না, যখন করি, তখন কিন্তু মিলে যায়। আমি বলে দিয়ে যাচ্ছি, তৃণমূল কাল সেঞ্চুরি পার করে দিয়েছে। ২০২১ সালে মিলেছে, ২০২৪ সালে মিলেছে, আর এ বারও মিলবে।” প্রথমে ক্যানিং পশ্চিম ও পরে ডায়মন্ড হারবার বিধানসভার জনসভা থেকে দাবি করলেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।


এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বক্তব্যকে আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, ”বাংলা যেটা আমার জন্মভূমি ও কর্মভূমি, সেই মাটিতে গুজরাটের গুন্ডারা এসে বলছেন উল্টো ঝুলিয়ে সিধে করে দেব। আমি শুধু বলেছি, আপনি ঠান্ডা জল খান। আমি অনুরোধ করেছি, ৪ তারিখ বাংলায় থাকবেন, দেখা হবে। বাংলা কখনও ভয় করে না, নিশ্চিত বিজেপির পরাজয়! আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে খালি বলেছিলাম গরম বেশি পড়ছে, মাথা ঠান্ডা রাখুন, জল বেশি করে খান। আর আপনার যদি সৎ সাহস থাকে ৪ তারিখ বাংলায় থাকবেন বেলা ১২টার পর দেখা হবে। তিনি বলেছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে গালাগালি দিয়েছে। আমার মুখ থেকে কোনওদিন একটা বাজে শব্দ গত পনেরো বছরে কেউ শুনেছে? আমি জল খেতে বলেছি, মাথা ঠান্ডা রাখতে বলেছি। জল খাওয়া, মাথা ঠান্ডা রাখা, গরমে সবার উচিত। বেশি করে জল খাও, মাথা ঠাণ্ডা রাখো।”

বিজেপিকে নিশানা করে তৃণমূলের সেনপতি বলেন, “যারা আগে আমাদের মাছ-মাংস খাওয়া নিয়ে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করত, এখন ভোট আসতেই সেই বিজেপি নেতারা হাতে ইলিশ, রুই, কাতলা নিয়ে প্রচার করছে। ৪ তারিখের পর এদের মাছের বাজারে নিয়ে গিয়ে মাছ কাটাব এবং বিক্রিও করাব। যারা বাঙালিদের ‘বাংলাদেশি’ বা ‘রোহিঙ্গা’ বলে অপমান করেছে, আগামী ২৯ তারিখের নির্বাচনে ব্যালট বাক্সে তাদের যোগ্য জবাব দিন। বিজেপি ইতিমধ্যেই ‘ভোকাট্টা’ হয়ে গিয়েছে। কালকে তো তৃণমূল কংগ্রেস সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দিয়েছে। কালই সেঞ্চুরি ক্রস হয়ে গেছে। উত্তরবঙ্গ বা জঙ্গলমহল যদি বিজেপির মেরুদণ্ড ভেঙে থাকে, তবে দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা ওদের কোমর আর হাঁটু ভেঙে বঙ্গোপসাগরে বিসর্জন দেবে।”


অভিষেকের কথায়, “দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার মাটি তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্জয় ঘাঁটি। সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পথ দেখিয়েছিল এই জেলার মাটি। আমার জন্মভূমি দক্ষিণ কলকাতা হতে পারে, কিন্তু আমার কর্মভূমি এই দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা। যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেছে, তাঁরা আতঙ্কিত হবেন না। ৪ঠা জুন ফল বেরোবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ফের ক্ষমতায় ফিরবে। এক মাসের মধ্যে আপনারা ভোটার আইডি কার্ড পাবেন। এটা আমাদের শপথ। আমাদের ভোট লাস্টে হয়, যেটুকু অবশিষ্ঠ ছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনা সেটার জবাব দেবে।”


ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী পান্নালাল হালদারের সমর্থনে কপাটহাট মোড় থেকে এম বাজার পর্যন্ত রোড শো করেন অভিষেক। তাঁকে দেখতে উপচে পড়ে ভিড়। রাস্তা রূপ নেয় জনস্রোতের। রোড শোয়ের পর হুড খোলা গাড়ির মাথায় দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দেন অভিষেক।


তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, ”প্রথম দফায় অনেক চেষ্টা করেও বিজেপি কিছু করতে পারেনি। দ্বিতীয় দফাতেও ভোর ৫ টা থেকে থাকব সারারাত। ২৯ তারিখ আমাদের ভোটের লাইনে, গ্যাসের লাইনে, নাগরিকত্বের লাইনে দাঁড় করানোর জবাবটা দিতে হবে।”


ডায়মন্ড হারবারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে অভিষেক বলেন, ”১২ বছরে ডায়মন্ড হারবারে অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে। স্কুল, কলেজ থেকে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল হয়েছে। গোটা দেশ এখন ডায়মন্ড হারবার মডেলকে ফলো করছে। এবার আরও ভালো করে সেবাশ্রয় শিবির হবে।”


আরও পড়ুন – IPL: শ্রেয়সকে ছাড়া ভুল সিদ্ধান্ত! বিস্ফোরক মন্তব্য প্রাক্তন কেকেআর কোচের
_
_
_
