মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমার যেভাবে দেশের একাধিক রাজ্যে এসআইআরের নামে বেছে বেছে ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতে কাজ করছেন, তা প্রমাণ করে দিয়েছে বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। সুপ্রিম কোর্টে মুখ পুড়েছে কমিশনের এসআইআর-এর (SIR)। তার পরেও নির্লজ্জ কেন্দ্রের সরকার লোকসভা (Loksabha) ও রাজ্যসভায় (Rajyasabha) জ্ঞানেশ কুমারের (CEC Gyanesh Kumar) বিরুদ্ধে আনা অপসারণের নোটিশ (impeachment notice) কোনও শুনানি ছাড়াই খারিজ করে দিয়েছে। তবে জ্ঞানেশ-অপসারণে অনড় বিরোধীরা নতুন করে শুক্রবার রাজ্যসভায় প্রস্তাব আনলেন।

রাজ্যসভার ৭৩ বিরোধী সাংসদ সংসদের উচ্চকক্ষের চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণনের (C P Radhakrishnan) কাছে নিজেদের প্রস্তাব জমা দিয়েছেন। সেখানে দাবি জানানো হয়েছে, যতক্ষণ না এই নোটিশের কোনও নিষ্পত্তি হচ্ছে, ততক্ষণ যেন যে কোনও নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে জ্ঞানেশ কুমার নিজেকে সরিয়ে রাখেন (recuse)। বাস্তবে, সংসদের দুই কক্ষে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার পরেও নিজের সম্মানের স্বার্থে যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনের পদ থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত ছিল জ্ঞানেশ কুমারের, তা সাংবাদিক বৈঠকে তুলে ধরেছিলেন বিরোধী সাংসদরা।
দেশের পাঁচ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে চার জায়গায় নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ। বাংলাতেই শুধু একদফার নির্বাচন বাকি। এই পরিস্থিতিতে অপসারণের নোটিশে (impeachment notice) যে অভিযোগগুলি তোলা হয়েছিল তার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত করা হয়েছে, ১৮ এপ্রিল দূরদর্শনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেওয়া ভাষণ। নির্বাচন চলাকালীন সেই ভাষণে সম্পূর্ণভাবে আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘন হলেও কোনও পদক্ষেপ নেননি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।

আরও পড়ুন : জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্টে অনড় বিরোধীরা: নতুন নোটিশের প্রস্তুতি

আগেই ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার সময়ে সাতটি অভিযোগ এনেছিলেন বিরোধী সাংসদরা। তার মধ্যে নিয়োগ দুর্নীতি, বিভেদ নীতি, নির্বাচনী জালিয়াতির তদন্তে বাধা, বিহারে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভুল পথ অনুসরণ থেকে সুপ্রিম কোর্টের অবমাননার অভিযোগ ছিল। তার সঙ্গে নতুন করে মোদির ভাষণ ও আরও একটি অভিযোগ তুলে নোটিশ জমা রাজ্যসভায়। লোকসভাতেও একই প্রক্রিয়ায় অপসারণ নোটিশ জারি করার পথে বিরোধী সাংসদরা।

–

–

–
–
–
