সংসদে সংবিধান সংশোধনের বিজেপির চক্রান্ত ব্যর্থ হওয়ার পরেও মহিলা সংরক্ষণ সংশোধিত বিল আবার নিয়ে আসার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাল্টা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্টে অনড় বিরোধী জোট। বরং সংসদে ডিলিমিটেশন বিল পাস করাতে বিজেপি জোটের ব্যর্থতার পরে আরও একবার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট (impeachment) আনার তোড়জোড় নতুন করে শুরু করেছে বিরোধী জোট। নতুন করে ইমপিচমেন্টের প্রস্তাব লেখার জন্য পাঁচ জন সাংসদকে নির্বাচন করা হয়েছে।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের জন্য সংসদের দুই কক্ষে প্রস্তাব এনেছিল বিরোধী সাংসদরা। সেই প্রস্তাবে ১৯৩ জন বিরোধী সাংসদ স্বাক্ষর করেছিলেন। প্রস্তাবেই লোকসভার ১৩০ ও রাজ্যসভার ৬৩ জন সাংসদ স্বাক্ষর করা হলে, ভোটাভুটিতে সেই সংখ্যাটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াতো তা আন্দাজ করে প্রস্তাবই খারিজ করার পথে যায় মোদি সরকার। কার্যত এই পদ্ধতিতে প্রস্তাব খারিজ কতটা অনৈতিক ও বেআইনি, তা প্রমাণ করে দিয়েছেন বিরোধী সাংসদরা। কোনও প্রস্তাব সংসদের কোনও কক্ষে গৃহিত হলে তা নিয়ে আলোচনার আগে লোকসভা বা রাজ্যসভার প্রিসাইডিং অফিসার (presiding officer) তা বাতিল করে দিতে পারে না, স্পষ্ট জানিয়েছিলেন কংগ্রেস সাংসদ আইনজীবী অভিষেক মনু সাংভি।
বিজেপি যখন সংসদের চেহারা বদলাতে গোটা দেশে স্বৈরাচারী পথে ডিলিমিটেশন করার জন্য ডিলিমিটেশন কমিশন করতে বদ্ধ পরিকর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণের নামে সেই অভিসন্ধির কথা জানাচ্ছেন। সেখানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকেই সেই ডিলিমিটেশন কমিশনের (Delimitation Commission) মাথায় বসানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ফলে বিরোধীদের তরফে আবারও জোরালোভাবে জ্ঞানেশ কুমারকে (CEC Gyanesh Kumar) অপসারণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন : ইমপিচমেন্ট বিজ্ঞপ্তি খারিজ গণতন্ত্রের উপরই প্রশ্ন: জ্ঞানেশ-ইস্যুতে একজোট I.N.D.I.A.

তবে এবার যেভাবে ডিলিমিটেশন বিলকে সংসদে পাস হতে আটকেছে বিরোধী জোট, সেভাবেই জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পেশের পথে এগোচ্ছে বিরোধী জোট। লোকসভার অন্তত ২০০ সাংসদ, রাজ্য়সভার ৮০ সাংসদের স্বাক্ষর সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী দুদিনের মধ্যে সেই প্রস্তাব পেশের সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত সাতটি অভিযোগ এনে তাঁর অপসারণ চাইছে বিরোধীরা। তার মধ্যে নিয়োগ দুর্নীতি, বিভেদ নীতি, নির্বাচনী জালিয়াতির তদন্তে বাধা, বিহারে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভুল পথ অনুসরণ থেকে সুপ্রিম কোর্টের অবমাননার অভিযোগও রয়েছে। সব অভিযোগের তদন্তে যেখানে কমিটি তৈরি করে অপসারণ প্রস্তাব বিবেচনার করার কথা ছিল, সেখানে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা (Speaker Om Birla) ও রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণণ নিজেরাই প্রমাণের অভাবের কারণ দেখিয়ে খারিজ করে দিয়েছিলেন। তার পাল্টা নতুন করে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার পথে বিরোধী সাংসদরা।

–

–

–
–
–
