বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) ও সন্দীপন সাহার (Sandipan Saha) অভিযোগের ভিত্তিতে বিধায়কদের (MLA) সই জাল তদন্ত হচ্ছে। সোমবার, নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এই সত্য ফাঁস করার পরেই এই দুই বিধায়ককে সাসপেন্ড করে তৃণমূল। আর পরেই ঋতব্রত ও সন্দীপনর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূল (TMC) বিধায়ক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। সোমবার বিধানসভার বাইরে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ”এত বড় বিশ্বাসঘাতকতা করেন কী করে ওঁরা? দলের সিদ্ধান্তের কথা স্পিকারকে (Speaker) জানিয়েছেন। দলের মধ্যে যদি কোনও সমস্যা থাকে তাহলে সেটা আগে দলকে বলুক।”

তীব্র কটাক্ষ করে কুণাল (Kunal Ghosh) বলেন, ”তৃণমূলের হয়ে জেতার পর এবার সরকারের পক্ষে বলছেন তাঁরা। দল যদি এতটাই খারাপ হয় তাহলে তাঁরা দাঁড়িয়েছিলেন কেন ভোটে? বিরোধী পক্ষ বলে আজ সব খারাপ হয়ে গেল।”

কুণালের কথায়, ”যারা বিধানসভায় পাঠাল তাদের প্রতি এত বড় বিশ্বাসঘাতকতা। মানুষ এর বিচার করবেন।” এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও ধন্যবাদ জানিয়ে বেলেঘাটার বিধায়ক বলেন, “আমি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, আমরা যেমন ওদের দলবিরোধী কাজের জন্য দল বহিষ্কার করেছে, তিনি সেটা জাস্টিফায়েড করে দিয়েছেন। যে সদ্য জেতা বিধায়করা, যাঁদের বয়স ২০ দিন, তাঁরা প্রথমেই অনেক দিকে চিঠি দিচ্ছে।”

এর পরেই থেকে ২ বহিষ্কৃত বিধায়ককে নিশানা করে কুণাল বলেন, ”দলের প্রতীকেই আমি এবং আমরা বিধায়ক। ফল প্রকাশের এক মাসও হয়নি। তার আগেই দলে বিদ্রোহ, বিশ্বাসঘাতকতা? দলের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ? তাহলে আমরা দাঁড়িয়েছিলাম কেন? আজ দিদি মুখ্যমন্ত্রী হলে তো অনেকে মন্ত্রী হওয়ার লবি করত। এখন হঠাৎ নানা কারণ দেখিয়ে দূরত্ব? এটা কাপুরুষতা।”

কুণাল স্পষ্ট জানান, ”দলের কর্মপদ্ধতি নিয়ে দলের বৈঠকে খোলাখুলি বলব। প্রয়োজনে প্রকাশ্যে বলব। কিন্তু দলের পাশে থেকে। তাতে কাজ না হলে তারপর দেখা যাবে। তার আগেই ‘ভালো’ সাজার এত চেষ্টা? অনেকের এর পেছনে অন্য কোনো কারণ নেই তো? যাঁরা দলের কাছ থেকে বহু দায়িত্ব, পদ, ক্ষমতা এতদিন পেয়ে এসেছেন, তাঁদের মধ্যে ক’জন আজ সামনে আছেন? বাকিরা কোথায়? দলের ভালোর সময়ে ক্ষমতা, ছবি, সেলফি; আর খারাপ সময়ে হাঁটু কাঁপছে? ভয়? আপনি বিরোধী বিধায়ক হতে ভয়? সরকারপক্ষে থাকলে সাহসী? দলের তরফে বিধায়ক হওয়ার পর দলের বৈঠক নিয়ে কোনো বক্তব্য থাকলে দলকে না জানিয়ে গোপনে প্রতিপক্ষের কাছে অভিযোগ? এত বড় বিশ্বাসঘাতকতা! কর্মীরা বিচার করবেন। দল আবার ঢেলে সাজাবেন নেত্রী। একটু অপেক্ষা করা গেল না? তৃণমূলকে ভালো-মন্দের পথে রাখার ক্ষমতা বা এক্তিয়ার কোনোটাই আমার নেই। কিন্তু সদ্য বিধায়ক হওয়ার পরেই দলবিরোধী বা দিদির বাইরে কিছু করলে আমার বেলেঘাটার মানুষও আমাকে গদ্দার, বেইমান ভাববেন। নিজের কাছেও ছোট হয়ে যাব। তাই, হতে পারে বিরোধী দল, হতে পারে এখন চাপের মুখে, হতে পারে দল সমালোচিত; তবু মমতা ব্যানার্জির পাশেই থাকব।”

তীব্র কটাক্ষ করে বেলেঘাটার বিধায়ক বলেন, ”যদি তৃণমূলের কাউকে কাউকে গাজর দেখিয়ে ভাঙানোর চেষ্টা বিজেপি করে, তাতে আমি বিজেপির দোষ দেখি না। ওরা আগেও ‘যোগদান মেলা’ করেছে। আমরাও ওদের লোককে নিয়েছি। ওরা আজ ক্ষমতায়। ওদের সমালোচনার আগে নিজের ঘরের দিকে তাকাব। যারা নিজেরা সদ্য জিতে, দল সরকার থেকে সরেছে বলে বিলম্বিত বিবেক জাগরণের চিত্তচাঞ্চল্যে কাতর; দমবন্ধের ছটফটানি, তাদের দিকে দেখব। এরা নির্দল হিসেবে নিজে জেতেননি। মমতাদির প্রতীক, মুখ, প্রচার ব্যবহার করে জিতেছেন। তাদের অনেককে মাথায় তুলল কারা, তাদের প্রশ্ন করব।”
আরও খবর: তৃণমূলের ২ ‘বিভীষণ’-এর অভিযোগেই সই-জাল তদন্ত: ফাঁস করলেন মুখ্যমন্ত্রী, ঋতব্রত-সন্দীপনকে বহিষ্কার করল দল

কুণালের প্রশ্ন, ”দলকে বলার বদলে সরকার পক্ষের কাছে ভাল সাজতে যাওয়া। যে দল জেতাল, বিধানসভায় পাঠাল, যে নেত্র্রীর দেওয়া টিকিটে জিতলেন, প্রথম দিনের মিটিংয়ের পর এত বড় বিশ্বাসঘাতকতা, এটা মেনে নেবে না মানুষ। আমাদের দলে নিশ্চয়ই সমালোচনার যোগ্য বিষয় রয়েছে।”

ঋতব্রতকে নিশানা করে কুণাল বলেন, “ধৈর্য্য তো ধরবেন। একটা মিটিংয়ের পর সঙ্গে সঙ্গে চিঠি, দিল্লিতে গিয়ে গ্যারেজের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা। সিপিএম পর্ব মেটার পর ঋতব্রতকে তো তৃণমূল বুক দিয়ে আগলে রেখেছিল, রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল, তাঁর একবার মনে হল না! সব সময়ে ক্ষমতার কাছে থাকতে হবে?”
–
–
