আউশগ্রামের (Aushgram) সাধারণ এক গৃহবধূ (Housewife) থেকে রাজ্যের মন্ত্রী। কলিতা মাঝির (Kalita Majhi) এই যাত্রাপথ যেন সংগ্রাম আর অধ্যাবসায়ের এক অনন্য গল্প। নতুন মন্ত্রীসভায় তাঁর নাম ঘোষণার খবর পোঁছাতেই বিস্মিত হয়ে পড়েন তিনি নিজে। প্রথমে তাঁকে ফোন করে কলকাতায় (Kolkata) আসার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু কেন তাঁকে ডাকা হয়েছে সেটা তিনি জানতেন না। পরে সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পারেন, তাঁকে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই খবর শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আউশগ্রামের বিধায়ক (MLA of Kalkaaushagram)। তিনি বলেন, “আমাকে যখন নির্বাচনের জন্য টিকিট দেওয়া হল, সেটাই অনেক। মন্ত্রী হব, কোনওদিনও ভাবিনি। মানুষের পাশে থাকব। সত্যিই মন্ত্রী হব?”

দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করেই বড় হয়ে উঠেছেন কলিতা। অল্প বয়সে বিয়ে হলেও আর্থিক অনটন তাঁর পিছু ছাড়েনি। সংসার চালানোর জন্য দীর্ঘদিন পরিচারিকার কাজ করেছেন। তবে নিজের কষ্টের মধ্যেও এলাকার অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানো কখনও বন্ধ করেননি। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের মহিলাদের নানা সমস্যায় সাহায্য করতেন তিনি। মানুষের সঙ্গে সেই নিবিড় যোগাযোগই ধীরে ধীরে তাঁকে রাজনীতির দিকে টেনে আনে। স্থানীয় স্তরে সংগঠনের কাজ করতে করতেই মানুষের আস্থা অর্জন করেন তিনি। আরও পড়ুন: ছাত্র রাজনীতি থেকে মন্ত্রী: শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় কে রাজ্যের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য

রাজনৈতিক জীবনও খুব সহজ ছিল না তাঁর। ২০২১ সালেও বিজেপি তাঁকে টিকিট দিয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে দলের হয়ে কাজ করলেও সাফল্য আসেনি। নির্বাচনের পরাজয়ের হতাশাও দেখতে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক এবং জনসংযোগের কাজ থেকে কখনও সরে যাননি তিনি। সেই পরিশ্রমের ফলেই এবার শুধু বিধায়ক নয়, মন্ত্রীসভাতেও স্থান পেলেন তিনি।

মন্ত্রী হওয়ার পরেও সাধারণ মানুষের কাছেই থাকতে চান কলিতা মাঝি। তাঁর কথায়, মানুষের আস্থা ও ভালবাসাই তাঁকে এই জায়গায় পোঁছে দিয়েছে। তাই নতুন দায়িত্ব পেলেও এলাকার মানুষের সমস্যা, দাবি এবং প্রয়োজনের কথা আগের মতোই শুনবেন এবং তাঁদের পাশে থাকার চেষ্টা করবেন। আর সেই কারণেই তাঁর মন্ত্রী হওয়ার খবরে আজ গর্বিত ও উচ্ছ্বসিত আউশগ্রাম।

–

–

–

–
–
–
