দ্বিতীয় দফা ভোটের ঠিক দু’দিন ফের উত্তপ্ত ভাঙড়! রবিবার রাতে ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লার ওপর হামলার অভিযোগ উঠল ISF-এর বিরুদ্ধে। এলাকায় এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন তৃণমূল কর্মী আহত হয়েছেন। এর নির্বাচনী প্রচারে ভাঙড়ে এসে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শওকতের প্রাণহানির আশঙ্কা করেছিলেন। হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন কিছু হলে রেয়াত করা হবে না। এই ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী।

রবিবার রাতে চালতাবেড়িয়া এলাকায় নির্বাচনী প্রচার সেরে ফিরছিলেন শওকত মোল্লা। অভিযোগ, ফেরার পথে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। তৃণমূল কর্মীদের মারধর করার পাশাপাশি ভাঙচুর চালানো হয় বলেও দাবি করা হয়েছে। হামলায় অভিযোগের তির ওঠে ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (ISF)-এর বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই সরব হন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা। হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে দীর্ঘক্ষণ পথ অবরোধ চলে। ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী এই আক্রমণকে ‘পরিকল্পিত’ বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, “ভোটের আগে ইচ্ছাকৃতভাবে এলাকায় অশান্তি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি একটি পরিকল্পিত হামলা। আমাদের কর্মীদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। আমরা পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছি এবং দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।” যদিও হামলার যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছে আইএসএফ নেতৃত্ব। তাঁদের পাল্টা দাবি, এলাকায় উত্তেজনা ছড়াতে এবং ভোটারদের সহানুভূতি আদায় করতেই তৃণমূল এই নাটক সাজিয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে আইএসএফ-এর কোনো যোগ নেই বলে দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। আরও পড়ুন: ভোটবঙ্গে পুলিশ পর্যবেক্ষক-বিজেপি প্রার্থীর গোপন বৈঠক ইস্যুতে হাইকোর্টে তৃণমূল
ভাঙড় বরাবরই রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এলাকা। তবে ভোটের আগেই তৃণমূল প্রার্থীর উপর হামলার ঘটনাতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকা জুড়ে। বারুইপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও উত্তেজনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, সংবেদনশীল এই এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।

–

–

–

–

–
–
–
