ফের বিয়ের বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে প্রাণ হারালো এক যুবক। ঘটনাটি ঘটেছে গুরগাঁওয়ের সেক্টর-৫৪ এলাকায়। এক ডেলিভারি এজেন্টকে (২৩) শ্বাসরোধ করে খুন করে তাঁর দেহ লোহার ট্রাঙ্কে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠল স্ত্রীর প্রেমিকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় পুলিশ মূল অভিযুক্ত সোনু কুমার (১৯) এবং তার সহযোগী মহম্মদ মিরাজকে (২০) গ্রেফতার করেছে।

নিহত যুবকের নাম আমান। তিনি বিহারের সাহারসা জেলার বাসিন্দা ছিলেন। কর্মসূত্রে স্ত্রী সুনীতার সঙ্গে গুরগাঁওয়ে থাকতেন আমান। পুলিশ জানিয়েছে, আমান ডেলিভারি এজেন্টের কাজ করতেন এবং তাঁর স্ত্রী সুনীতা পরিচারিকার কাজ করতেন। অভিযুক্ত সোনু কুমার ও মহম্মদ মিরাজও তাঁদের সঙ্গেই থাকতেন।
তদন্তে জানা গিয়েছে, সোনুর সঙ্গে সুনীতার দীর্ঘদিনের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি আমান এই সম্পর্কের কথা জেনে ফেলায় পরিবারের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। সোনু ভয় পেয়েছিলেন যে আমান হয়তো এর প্রতিশোধ নেবেন, আর সেই আশঙ্কা থেকেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা স্বীকার করেছে যে, গত ২৫ এপ্রিল ভোরে আমান যখন একা ছিলেন, তখন সোনু ও মিরাজ তাঁর ওপর চড়াও হন। একজন আমানের পা চেপে ধরেন এবং অন্যজন তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন। মৃত্যু নিশ্চিত করার পর তাঁরা নিথর দেহটি একটি লোহার ট্রাঙ্কে ভরে তালাবন্ধ করে চম্পট দেয়।

রবিবার সুনীতা আমানের ভাইকে কল করে দাবি করেন যে আমানের এক বন্ধু তাঁকে খুন করেছে। খবর পেয়ে ভাই তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালাবন্ধ ট্রাঙ্কটি দেখতে পান এবং পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। গুরগাঁও পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোবাইল টাওয়ার লোকেশন খতিয়ে দেখে বিহারের বাসিন্দা সোনু ও মিরাজকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করে। বর্তমানে ধৃত দুই যুবককে পুলিশি হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে।

–

–

–
–
–
