দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ফের নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার রাতে আচমকাই সরিয়ে দেওয়া হল দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও বীরভূমের দুই অতিরিক্ত জেলাশাসককে (এডিএম)। কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই দুই আধিকারিক আপাতত ভোটের কোনও কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। কেন এই পদক্ষেপ, তা নিয়ে সরকারিভাবে কোনও কারণ ব্যাখ্যা না করা হলেও বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

কমিশন সূত্রে খবর, দক্ষিণ ২৪ পরগনার এডিএম পদে কর্মরত ছিলেন ভাস্কর পাল এবং বীরভূমের এডিএম ছিলেন সৌভিক ভট্টাচার্য। দুই জেলার নির্বাচনী প্রস্তুতির অন্তিম লগ্নে এই গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকদের সরিয়ে দেওয়া যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ফলতার বিডিও সৌরভ হাজরাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ পর্যবেক্ষকের সঙ্গে অসহযোগিতার অভিযোগে তাঁকে পুরুলিয়ায় বদলি করা হয়। তার রেশ কাটতে না কাটতেই জেলা স্তরের দুই শীর্ষ আধিকারিকের পদচ্যুতি কমিশনের কড়া মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এদিকে ভোটের আগের রাতে সাংবাদিক বৈঠক করে সাধারণ ভোটারদের আশ্বস্ত করেছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল। তিনি বলেন, রাজ্যবাসী নির্ভয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। কেউ কোনও ক্ষতি করতে পারবে না। গোটা প্রশাসন সজাগ রয়েছে। যে কোনও অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় বাহিনী সব জায়গায় মোতায়েন রয়েছে এবং প্রতিটি বুথে ওয়েব কাস্টিংয়ের মাধ্যমে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। কন্ট্রোল রুম থেকে সমস্ত পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনওরকম আপস করা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন সিইও। স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে ১০০ মিটারের মধ্যে বহিরাগত প্রবেশ রুখতে সমস্ত কড়াকড়ি বলবৎ থাকছে। ভোটকেন্দ্রে গন্ডগোল বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট বুথে পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়নি কমিশন।

আরও পড়ুন- নির্বাচনের আগে টাকার আমদানি থেকে বহিরাগত: তিন দাবিতে কমিশনে তৃণমূল

_

_

_
_
_
_
