নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগে রাজ্যের প্রতিটি রাজনৈতিক দল আসন ধরে ধরে হিসাবে ব্যস্ত। একদিকে যেমন ভোট গণনা নিয়ে রণকৌশল নির্ধারণ করার কাজ চলছে, অন্যদিকে চলছে আসন জয়ের হিসাব নিকাশ। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের হাতে পৌঁছেছে বিরোধী একটি দলের আভ্যন্তরীণ পরিসংখ্যান (internal assessment)। আর সেই পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট তৃণমূল কংগ্রেস ২০০-র বেশি আসন (seat) নিয়ে আবার সরকার গঠন করতে চলেছে। আর সেই বিরোধী দল (opposition party) নিজেদের ৭৮-এর বেশি আসনই দিতে পারছে না। বিরোধী দলের সেই মূল্যায়ন নথি তুলে ধরেই তৃণমূলের দাবি, সেই পরিসংখ্যান স্পষ্ট হওয়ার পরই বদলে গিয়েছে রাজ্যের বিজেপি নেতাদের মুখের ভাষা।

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টা আগে বিরোধী রাজনৈতিক দলের যে নথি তৃণমূলের হাতে পৌঁছেছে, তা তুলে ধরে বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ জানান, কোনও একটি রাজনৈতিক দল তাঁদের আভ্যন্তরীণ শীর্ষ বৈঠকে প্রত্যেকটি আসন ধরে ধরে মূল্যায়ন করেছেন। কোনটা তাঁরা ফোকাস করবেন, কোনটা জেতার মতো, কোনটা জেতার মতো নয়। যে ছয়জন শীর্ষ নেতা বসে পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেকটি আসন ধরে যা করেছেন তাতে দেখা যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল গরিষ্ঠতা নিয়ে ফিরছে। এবং ভারতীয় জনতা পার্টির মূল টার্গেটেড আসন (targeted seat) ৭৮-এর বেশি উঠছে না। আমি কোনও মন্তব্য করছি না।
বিরোধী দলের এই নথি যেভাবে তৃণমূলের হাতে পৌঁছেছে, তাতে স্পষ্ট দিল্লি থেকে আসা সেই দলের শীর্ষ নেতারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এই নথি তৈরি করেছিলেন। এই সম্পর্কে কুণাল ঘোষ ফাঁস করেন, তাঁদের ছয়জন শীর্ষ নেতা বৈঠকে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন এই রাজ্যের। তিনজন এই রাজ্যের নয়। মূল্যায়নে যা শেষ পর্যন্ত উঠে আসছে সব মিলিয়ে একটি সংখ্যা আসছে – ৭৮। সেটা তৃণমূল নয়। সর্বাধিক জয় সম্পর্কে নিশ্চিত ৭৮ কেন্দ্রে (seat)। তারপর তাঁরা সেই অনুযায়ী শেষ দু-তিনদিন ও গণনা পর্যন্ত কোন কোন আসনে কতটা গুরুত্ব দেবেন। তাঁদের শীর্ষ নেতৃত্ব, যাঁরা এই রাজ্যে থাকেন না। তাঁদের মতামত নিয়ে ছয়জন মিলে এটা তৈরি করেছিলেন। তাঁদের হাতের লেখা তাঁরাই চিনতে পারবেন। তিনি হয়তো বাংলায় থাকেন না। ডেইলি প্যাসেঞ্জারি করেন। দিল্লি থেকে এসে যাঁরা নির্দেশ দিয়েছিলেন, বামদিকে টাইপ করে রাখবেন কেন্দ্রের নাম আর ক্যাটাগরি। আর মূল্যায়নটা তাঁরা বসাবেন।

নির্বাচনের প্রতিটি দফার শেষে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে এনেছিলেন তৃণমূলের সম্ভাব্য আসন সংখ্যা। তাঁর সেই দাবিই যে বিরোধীদের পরিসংখ্যানেও মান্যতা পাচ্ছে, তা এই নথিতেই স্পষ্ট। সেখানেই কুণালের স্পষ্ট দাবি, বিরোধীরাও নিশ্চিত ২০০-র বেশি আসন, ২২৫-৩০ আসন নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্ব ফিরে আসছে। এবং আমাদের কোনও একটি প্রতিপক্ষ একেবারে মেখলিগঞ্জ থেকে প্রতিটি আসনের যে বিশ্লেষণ করেছেন, তার বিভিন্ন গ্রেড করেছেন। এবং কোনও কোনও জায়গায় আবার তাঁদের স্ট্রং ফ্যাক্টর (strong factor), কোথায় কত নাম বাদ, দিয়ে হিসাব করেছেন। কোনও একটি দল তাঁরা তৈরি করে রেখেছেন – ৭৮ – এই ফিগারটা। আমার বলছি তৃণমূল কংগ্রেস ২৩০-এর বেশি পাবে। ২৫০-এর কাছাকাছি যাবে সেরকম হবে। প্রথম দফায় সেঞ্চুরি (century) হয়ে গিয়েছে। দ্বিতীয় দফায় ডবল সেঞ্চুরি (double century)।

আরও পড়ুন : গণনায় নিজেদের নির্দেশ নিজেরাই ভাঙছিল কমিশন: স্পষ্ট নিষেধ সুপ্রিম কোর্টের

এমনকি বিজেপির বঙ্গ নেতাদের শরীরী ভাষাও যেন সেই কারণেই বদলে গিয়েছে। কোনও দলের নাম না করে কুণাল দাবি করেন, সেই জন্য গত পরশু অবধি তাঁদের অনেক হাঁক ডাক ছিল। গতকাল থেকে তাঁদের ভাষা হচ্ছে – বাংলার মানুষ ভোট দিয়েছেন। ভোটের রায় মেনে নিতে হবে। এই সব ভাষার পরিবর্তন হয়েছে।

–

–
–
–
