মুম্বইয়ে জে জে মার্গ এলাকায় মর্মান্তিক ঘটনা! গ্রীষ্মকাল মানেই ঘরে আসবে তরমুজ আমের মত ফল কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত রাতে তরমুজ খাওয়ার পর একই পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কিছুদিন আগে মহানগরীতে বিষাক্ত তরমুজ খেয়ে এক দম্পতি এবং তাঁদের দুই নাবালিকা মেয়ের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। মর্মান্তিক মৃত্যুর পিছনে দায়ী তরমুজ না বিষক্রিয়া অন্য কিছু থেকে হয়েছিল সেটা যদিও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে সূত্র মারফত খবর, তরমুজের মতো কোনো বস্তু ছিল না, বরং ছিল এক মারাত্মক পদার্থ যা তাঁদের কিছু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সবুজ করে দিয়েছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, এই ধরণের রিপোর্ট সম্ভাব্য বিষক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয়।

দক্ষিণ মুম্বইয়ের আবদুল্লাহ ডোকাডিয়া (৪০), তাঁর স্ত্রী নাসরিন (৩৫) এবং দুই মেয়ে আয়েশা (১৬) ও জয়নেব (১৩) একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে বিরিয়ানি খাওয়ার পর তরমুজ খান। তারপরে থেকেই পরিবারের চারজনের বমি ও ডায়রিয়া শুরু হয়। দ্রুত তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকলের মৃত্যু হয়। গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ ও ফরেন্সিক দল। খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল চিকেন পোলাও বা বিরিয়ানি, তরমুজ, জল এবং অন্যান্য খাবার। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী চারজনের মৃত্যুর কারণ বিষক্রিয়া। যদিও পুলিশ সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে। আবদুল্লাহ ডোকাডিয়ার ব্যাঙ্কের নথিও পরীক্ষা করা হচ্ছে। কোন কারণে অন্য কোন সমস্যার মধ্যে তাঁরা ছিলেন কিনা সেটাও দেখা হবে। ওই পারিবারিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের বয়ানও রেকর্ড করা হয়েছে। একই খাবার বাকিরা খেয়ে তাঁদের কিছু না হওয়াটা আশ্চর্যজনক।
প্রাথমিক ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে মৃতদের মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড ও অন্ত্রসহ কিছু অঙ্গ সবুজ হয়ে গিয়েছিল। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে, উপসর্গ এবং পরীক্ষার ফলাফল সাধারণ খাবারে বিষক্রিয়ার সঙ্গে মেলে না। রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে কারণ আব্দুল্লাহ ডোকাডিয়ার শরীরে মরফিন পাওয়া গিয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন যে দুর্ঘটনাবশত কোন ঘটনা ঘটেছে না এর নেপথ্যে অন্য বড় কারণ আছে। ইতিমধ্যেই একটি আকস্মিক মৃত্যুর মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছিল। রাজ্য এফডিএ তরমুজটিতে কোনো বাহ্যিক বিষাক্ত পদার্থ বা ভেজাল ছিল কি না পরীক্ষা করে দেখছে।

গরমে অত্যন্ত জনপ্রিয় ফল তরমুজ কিন্তু এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরেই কমে গিয়েছে তরমুজের চাহিদা। গরমের দাবদাহে রসালো লাল তরমুজের বাজারের চাহিদা মেটাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা তরমুজ দ্রুত পাকাতে ও লাল দেখাতে বিষাক্ত ইনজেকশন ব্যবহার করছে। এই রাসায়নিক মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এই ইনজেকশন দেওয়া তরমুজ খেলে ফুড পয়জনিং বা পেটের মারাত্মক সমস্যা হতে পারে। নভি মুম্বইয়ের এপিএমসি ফল বাজারে তরমুজের পাইকারি দাম এই ঘটনার পর নেমে এসেছে কেজি প্রতি মাত্র ৫ থেকে ৭ টাকায়। সাধারণত এই সময়ে পাইকারি বাজারে তরমুজ বিক্রি হয় কেজি প্রতি ১০ থেকে ৩৫ টাকায়। খুচরো বাজারে সেই দাম ৩০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত হয়। কিন্তু আপাতত ক্রেতাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় বাজারে বিক্রি তলানিতে।

আরও পড়ুন – ৫৭তম ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভাল অফ ইন্ডিয়ার ডিরেক্টর হলেন আশুতোষ গোয়ারিকর

_

_

_
_
_
_
