ন্যায়বিচার দেওয়ার আসনে বসে অন্যের জীবনের জট খোলার কথা ছিল তাঁর। অথচ নিজের জীবনের অশান্তির ভার আর বইতে পারলেন না। দিল্লিতে (Delhi) কর্মরত রাজস্থানের আলওয়ারের (Alwar) বিচারক আমন শর্মার (Judge Aman Sharma) মৃত্যুকে ঘিরে উঠেছে একের পর এক প্রশ্ন। পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি (family dispute), মানসিক চাপ এবং বাবার অপমানের যন্ত্রণা সহ্য করেত না পেরেই তিনি আত্মঘাতী হন। তাঁর এই মর্মান্তিক মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়েছে বিচারক মহলে।

পরিবারের সদস্যের কথায় মৃত্যুর দুদিন আগে আমন তাঁর বাবাকে ফোন করে জানান, তাঁর পক্ষে আর বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। সেই কথোপকথনই শেষ কথা। খবর পেয়ে বাবা প্রেম কুমার শর্মা (Prem Kumar Sharma) তড়িঘড়ি দিল্লিতে পৌঁছন। পরিবারের অভিযোগ, বাড়িতে প্রায়ই অশান্তি লেগেই থাকত এবং স্ত্রীর সঙ্গে বিবাদের জেরে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন। তাঁদের আরও দাবি, স্ত্রীর দিদি, যিনি জম্মুতে কর্মরত এক আইএএস অফিসার, তিনিও এই পারিবারিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতেন।
২ মে দুপুরে ঘরেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন আমন। পরিবারের দাবি, আমন অশান্তির কথা বলার পরে তাঁর বাবা প্রেম কুমার শর্মা আলোয়ার থেকে দিল্লি চলে যান। ঘটনার সময় ঘরের বাইরে ছিলেন তিনি। এবং ভিতরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া চলছিল। ঝগড়ার পর আমনের (Judge Aman Sharma) স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। শেষকৃত্যে শ্বশুরবাড়ির কেউ উপস্থিত ছিলেন না। রবিবার আলওয়ারে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

আরও পড়ুন : দিল্লির বিবেক বিহার এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঘটনাস্থলে দমকলের ১৪ ইঞ্জিন

২০২১ সালে বিচারক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন আমন শর্মা। তাঁর মৃত্যুতে দিল্লি, হরিয়ানা ও রাজস্থানের বহু বিচারক শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন। পরিবার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দাবি করেছে। তাঁদের বক্তব্য, যিনি অন্যের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেন, যদি তাঁর সঙ্গেই এমন ঘটনা ঘটে, তবে সাধারণ মানুষের জীবনের মূল্য কী? সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠছে।

–

–

–
–
–
