নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি মিলে বেইমানি (বিশ্বাসঘাতকতা) করে ভোট করিয়ে বাংলায় তৃণমূলকে হারিয়েছে। বৃহস্পতিবার, কালীঘাটে তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে দেখা করার পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তোপ দাগলেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব (Akhilesh Yadav)। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) ও সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনকে পাশে নিয়ে অখিলেশের অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) কায়দায় নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে ভোট করিয়েছে বিজেপি। মানুষের গণতন্ত্রহরণ হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁর। 

এদিন বিকেল সাড়ে তিনটের কিছু পরে কালীঘাটে (Kalighat) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে পৌঁছন সমাজবাদী পার্টি (SP) সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব। মমতার বাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে অখিলেশকে স্বাগত জানান স্বয়ং অভিষেক। গাড়ি থেকে নেমেই অভিষেককে বুকে জড়িয়ে ধরেন সমাজবাদী পার্টি সুপ্রিমো। অভিষেকের পিঠ চাপড়ে তিনি বলেন, “আপনারা খুব ভাল লড়াই করেছেন।” এরপর বাড়ির অন্দরে তৃণমূল সভানেত্রীকে দেখা মাত্রই তাঁর গায়ে শাল জড়িয়ে সম্মান জানিয়ে উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনি হারেননি।” বারবার এই কথা তাঁকে বলতে শোনা যায়। 
এর পরে প্রায় ঘণ্টাখানেক কালীঘাটে মমতার বাড়িতে বৈঠক হয়। বেরিয় অভিষেকদের পাশে নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সমাজবাদী পার্টি সুপ্রিমো একতিরে নিশানা করেন কমিশন ও বিজেপিকে। উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনের ছবি দেখিয়ে অখিলেশ (Akhilesh Yadav) হলেন, কীভাবে সেখানে ভোট চুরি করেছে বিজেপি। এর পরেই উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগে বলা হত বাংলা দেশকে পথ দেখায়। আর এখন বিজেপি উত্তরপ্রদেশে নির্বাচনের নামে কমিশনকে দিয়ে যে কারচুপি করেছিল, সেটাই সারা দেশে করেছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে, আধিকারিকদের বদলে এই নির্বাচন করানো হয়েছে। আমলাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, “তৃণমূলকে হারাতে হবে“- অভিযোগ অখিলেশের। 

উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এর আগে যখন তৃণমূল ক্ষমতায় এসেছে, তখন অন্যদলের কর্মীদের উপর আক্রমণ হয়নি। কিন্তু এবার বিজেপি ক্ষমতায় এসেই তৃণমূলের উপর আক্রমণ করেছে। শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক খুনের বিষয়ে সপা সুপ্রিমোকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি পাল্টা বলেন, আমাকে নয়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ট্যাগ করে স্যোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করুন।

একের পর এক উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনের ছবি দেখিয়ে অখিলেশ দাবি করেন, কমিশনকে দিয়ে জোর করে ভোট করিয়েছে বিজেপি। এখানেও একই ভাবে ভোট করানো হয়েছে। তীব্র কটাক্ষ করে অখিলেশ বলেন, বিজেপি আগে জয়ের সার্টিফিকেট দেয়, তার পরে নির্বাচন করায়। 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সপক্ষে অখিলেশ বলেন, দিদি এদের চোখের বালি। কারণ তিনি অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন। তিনি সমাজের তৃণমূলস্তরের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে বিশ্বাস বিজেপি একজন নারীর এই উত্থান মেনে নিতে পারে না। সেই কারণেই সারা দেশে বিজেপি শাসিত রাজ্যে একমাত্র একটিতে একজন মহিলা অর্ধেক মুখ্যমন্ত্রীকে বসিয়ে রেখেছে।
আরও খবর: ফলতা বাদে, বাংলা সহ চার রাজ্য-পুদুচেরি থেকে উঠল নির্বাচনী আচরণবিধি

তীব্র আক্রমণ করে সমাজবাদী পার্টি সুপ্রিমো বলেন, ক্ষমতা আদায়ে যতদূর পারে যায় বিজেপি, নিয়মভাঙে। বাংলার ঘটনার পরে সারাদেশের লোক জেগে যাবে। এই বিজেপি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারহরণ করতে চায়। এই অভিযোগ তাঁর সংসদেও করবেন বলে জানান অখিলেশ।

–
–
–
