রাজ্যের ক্ষমতায় আসার পরে একের পর এক নতুন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে বিজেপির সরকার। পরিবহন তার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে নতুন সরকারি বাস কেনার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikary)। আবার নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ঘোষণা করেছেন সরকারি বাসে মহিলাদের ভাড়া না নেওয়ার কথা। এই দুই ঘোষণায় সমস্যায় রাজ্যের বেসরকারি বাস মালিকদের (private bus owners) সংগঠনগুলি।
মুখ্যমন্ত্রীর বাস কেনার ঘোষণায় বাস মালিক সংগঠনগুলির দাবি, শুধু নতুন বাস (state bus) কিনলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সিএনজি (CNG bus) এবং বৈদ্যুতিক বাস (electric bus) চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো এখনও পর্যাপ্ত নয়। চার্জিং স্টেশন, রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার অভাব রয়েছে বলেই অভিযোগ। সংগঠনগুলির আশঙ্কা, তাই আগে চার্জিং ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা না করে নতুন বাস কেনা হলে তা সরকারি অর্থের অপচয়েই পরিণত হতে পারে।

এই প্রসঙ্গেই উঠে এসেছে পুরোনো প্রশ্ন। সেই প্রসঙ্গ তুলে বাস মালিক সংগঠনগুলির প্রশ্ন, তৃণমূল আমলে পরিবহণ মন্ত্রী থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikary) প্রায় ৬০০ সরকারি বাস (state bus) কিনেছিলেন। সেই বাসগুলির অনেকগুলিই এখন রাস্তায় দেখা যায় না বলে দাবি তাদের। ফলে নতুন করে বিপুল সংখ্যক বাস কেনার আগে পুরনো বাসগুলির অবস্থা এবং ব্যবহার নিয়ে সরকারকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে বলেও মত পরিবহণ মহলের একাংশের।

বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম ছিল সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াতের সুযোগ করে দেওয়া। সেই মতো পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে রাজ্য সরকার। সেখানেই প্রশ্ন, সরকারিভাবে এখনও পর্যন্ত মহিলাদের বিনামূল্যে বাসযাত্রা প্রকল্পের রূপরেখা প্রকাশ করা হয়নি। পরিবহণ দফতর সূত্রে ইঙ্গিত, সরকারি বাসের বহর বৃদ্ধি, ধাপে ধাপে বৈদ্যুতিক বাস চালু এবং ডিজিটাল টিকিটিং ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে।

আরও পড়ুন : দুধের প্যাকেটে জ্বালানির আঁচ, মধ্যবিত্তের পকেটে টান দিয়ে দাম বাড়ল আমুলের

যদিও সেখানেও প্রশ্ন বেসরকারি বাস মালিক সংগঠনগুলির (private bus owners association)। মহিলাদের সরকারি বাসে ভাড়া না নেওয়া হলে মহিলারা বেসরকারি বাসে উঠবেন না। ফলে এমনিতেই বেসরকারি বাসে এখন যাত্রী কম। এরপর আরও সেটা কমার আশঙ্কা বাস মালিক সংগঠনগুলির। সেক্ষেত্রেও বাস ভাড়া বাড়ানোর সঠিক রূপরেখা নির্ধারিত না হলে আরও বিপদে পড়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

–

–
–
–
