মঙ্গলবার আমি কর্মসূচিতে যাব। অনুমতি না দিলে দেবে না! রাস্তায় বসব। গ্রেফতার করলে করবে। আমাকে বাংলায় গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে না দিলে দিল্লিতে গিয়ে করব। ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকও হবে খুব দ্রুত। আমাকে ছেড়ে রাখলে আপনাদেরই বিপদ। আমি মাথা নত করি না। বড় জোর আপনারা আমাকে মেরে ফেলতে পারেন। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চলছে। এদিন দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে নেত্রীর বার্তা, আপনারাও আসুন। পুলিশ ঢুকতে না দিলে রাস্তাতেই বসব। সোমবার বিকেলে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একাধিক বিষয়ে বক্তব্য রেখেছেন তিনি। সেখানেই ২ জুনের পূর্ব-ঘোষিত কর্মসূচি নিয়েও কথা বলেন নেত্রী। তাঁর কথায়, আমরা পারমিশনের জন্য চিঠি দিয়েছি। এখন পুলিশ মাইক্রোফোনের পারমিশন আনতে বলেছে। পুলিশ বলছে এখান থেকে মিটিং শিফট করুন। মঙ্গলবার অনুষ্ঠান। এখন কী করে জায়গা বদল করব? আপনারা আগেই বলে দিতে পারতেন এখানে কর্মসূচি করা যাবে না! সেখানে করব। এখন মিছিল-মিটিং করার অনুমতি চাইতে হচ্ছে। হকারদের অনুমতি চাইতে হচ্ছে। রাস্তায় একটা ধরনা দেওয়া কি অমাঙ্গলিক? নেত্রীর সংযোজন, বেলা দশটা থেকে আমাদের বুকিং করা আছে। আমি বেলা ২টো নাগাদ যাব। আপনারাও আসবেন। মারলে মার খাব গ্রেফতার হলে হব। পুলিশ তৃণমূল দল ভাঙতে মাঠে নেমেছে, এটা কি পুলিশের কাজ? আমাকে বাংলায় গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে না দিলে দিল্লিতে গিয়ে করব। ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকও আছে খুব তাড়াতাড়ি। আমাকে ছেড়ে রাখলে আপনাদের বিপদ। আমি মাথা নত করি না। বড়জোর আপনারা আমাকে মেরে ফেলতে পারেন।

এদিন ফের গায়ের জোরে নির্বাচন জেতার প্রসঙ্গ তোলেন নেত্রী। বলেন, মেশিন হ্যাক হয়েছে। ১৭৭টা আসনে এ জিনিস হয়েছে। আমি নিজে ভুক্তভোগী। যখন ১৩ হাজার ভোটে জিতছিলাম তখন আমাকে মেরে বের করে দেওয়া হয়েছে। নেত্রী বলেন, কী করেছেন বকরি ইদে! বিরাট একটা কমিউনিটি যন্ত্রণা ভোগ করছে। একটা মিছিল-মিটিং করতে দিচ্ছে না। তৃণমূলের আড়াই হাজার পার্টি অফিস ভেঙে দিয়েছে। কর্মীদের মারছে। বাড়ি থেকে বের হতে দিচ্ছে না। বিধায়কদের ভয় দেখাচ্ছে। তাদের পুলিশ দিয়ে বলানো হচ্ছে, যদি আপনি তৃণমূলের বৈঠকে যান তবে আপনাকে আজ গাঁজা কেস দেওয়া হবে। আপনাকে গ্রেফতার করা হবে। এনআইএ আপনাকে ধরবে— এটা কোন গণতন্ত্রের নমুনা! সব গ্রাস করতে চায়। অত্যাচারের সমস্ত সীমা লঙ্ঘন হয়ে গিয়েছে। অন্যান্য রাজ্যেও তো নির্বাচন হয়েছে! এখানে তো এরকম কিছু হয়নি তবে কেন টার্গেট বাংলা!
নেত্রী বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে যেভাবে আপনারা আক্রমণ করলেন! যারা বাঁচাতে গেল তাদের গ্রেপ্তার করলেন। বিজেপি নেতাদের ছবি রয়েছে সেখানে। লোকাল কয়েকজন মাত্র ছিল। বাইরে থেকে আনা হয়েছে, খাবারের প্যাকেট আনা হয়েছে। এর মধ্যে আরও অনেক কাণ্ড হয়েছে লজ্জাজনক কাণ্ড। যদি হেলমেট না পরত এমনভাবে পাথর ছুঁড়েছিল মাথায় লাগলে স্পট ডেড হয়ে যেত। তার পরও বিজেপি সভাপতি বলছেন গর্ব করে, বেঁচে তো আছে! আপনাদের আমরা দুধে-আলতায় রেখেছিলাম। আর আপনারা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস করছেন পুলিশকে দিয়ে বন্দুক দিয়ে। আয়নায় নিজেদের মুখটা দেখুন। তৃণমূল কংগ্রেসকে আপনারা ভাঙতে চান! যতই চেষ্টা করুন এই দল আরও শক্তিশালী হবে। বড় বড় কথা বলছেন নিজেদের সম্পদ বাঁচানোর জন্য অনেক নেতা।

এখানে প্রশাসন সন্ত্রাস চালাচ্ছে। যারা রক্ষক তারাই ভক্ষক হয়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু নেই। হিটলারও এরকম অন্ধকার ইতিহাস তৈরি করতে পারেনি।

আরও পড়ুন- সই-বিতর্কে এবার কালীঘাটে সিআইডি! ‘অসুস্থ’ অভিষেকের বাড়ি ঘিরে ভিডিওগ্রাফি

_

_

_

_
_
_
_
