দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) স্পেশাল সেলের প্রচেষ্টায় গোপন সূত্রে খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ISI-এর সমর্থিত আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে সাতজনকে গ্রেফতার করা হল। তদন্তকারীদের দাবি, এই চক্রটি সীমান্তের ওপার থেকে পরিচালনা করা হচ্ছিল। পাকিস্তানের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ চলত। ধৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার হয়েছে। শুধু তাই নয়, অস্ত্র পাচার, মাদক সরবরাহ ও নাশকতার প্রস্তুতিও চলছিল।

এই সাতজন সন্ত্রাসবাদী শাহজাদ ভাট্টি এবং তার সহযোগী আজমল গুজ্জরের নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ, এই নেটওয়ার্ক ভারতের বিভিন্ন অংশে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক পৌঁছে দেওয়া ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলির রেকি বা নজরদারির কাজও করছিল। ধৃতদের থেকে ডিজিটাল ডিভাইস এবং কিছু রেকি-ভিডিয়ো উদ্ধার হয়েছে। মনে করা হচ্ছে ভিডিয়োতে যে এলাকার ফুটেজ রয়েছে সেখানে নাশকতার ছক কষা হচ্ছিল। যদিও পুলিশের তরফে নির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় নি। ধৃতরা, অস্ত্র পাচার এবং সীমান্তপারের জঙ্গি নেটওয়ার্কের মধ্যে যোগসূত্র ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এদের আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগের মাধ্যম, অন্য রাজ্যে কোনও স্লিপার নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে আরও কয়েকজন সন্দেহভাজনের খোঁজ করছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া ডিভাইসের ইলেকট্রনিক তথ্য বিশ্লেষণ করে নেপথ্যে কারা আছে জানার চেষ্টা চলছে। এদের অনেকেই শুরুতে ছোটখাটো অপরাধের সাথে জড়িত ছিলেন। অবৈধভাবে অর্থ ঋণ দেওয়া, গ্রাহকদের ভয় দেখানোর জন্য আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা, অর্থনৈতিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দ্রুত অর্থ উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে দলে নেওয়ার মত কর্মকাণ্ড চলত। দলে যুক্ত হলে গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি এড়াতে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত সুরক্ষিত (এনক্রিপ্টেড) মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে পরিচালনা হত। সীমান্ত-পারের নির্দেশদাতাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজধানীতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করা। ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (স্পেশাল সেল) নারা চৈতন্য এই বিষয়ে জানিয়েছেন যে, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা ইতিমধ্যেই জনবহুল জায়গা, তাঁদের কৌশলগত স্থাপনা এবং বিশিষ্ট ধর্মীয় নেতাদের ওপর ভিডিওর মাধ্যমে নজরদারি বা রেকি শেষ করে ফেলেছিল। অঞ্চলজুড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করাই মূল উদ্দেশ্য ছিল কিনা দেখা হচ্ছে।

–

–

–

–

–
