একুশে জুলাই শহিদ স্মরণে রাস্তা বন্ধ করে সভা নয়। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) অবমাননা নোটিশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। এর প্রতিক্রিয়া দিলেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)।

২০১৮ সালে তৃণমূল-সহ রাজ্যের ৩৮টি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেঞ্চে এর পর্যবেক্ষণ ছিল, বড় কোনও রাজনৈতিক সভা বা মিছিল হলে কলকাতায় ব্যাপক যানজট হয়। দুর্ভোগ হয় সাধারণ মানুষের। অ্যাম্বুল্যান্স বা অন্যান্য জরুরি পরিষেবাও বাধার সম্মুখীন হয়। এটা উদ্বেগের।

আদালত জানিয়েছিল, রাজনৈতিক সভার কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে যেতে পারে না। সভার জন্য কোনও বড় রাস্তা বন্ধ করা যাবে না। পথচারী এবং যানবাহন চলাচলের জন্য রাস্তার একাংশ খোলা রাখতে হবে। অ্যাম্বুল্যান্স কিংবা অন্যান্য জরুরি পরিষেবায় যাতে কোনওরকম বাধা তৈরি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রয়োজনে বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা করতে হবে। সভা বা মিছিলে ভাঙচুর কিংবা অশান্তি হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে বলেও জানায় হাইকোর্ট।তারপরেও হাইকোর্টের বক্তব্য রাস্তা আটকে বছরের পর বছর ধরে তৃণমূল কংগ্রেস ২১ জুলাইয়ের সভা করেছে। তাই এবার আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিশ দিয়ে নিজেদের বক্তব্য জানানোর নির্দেশ দিয়েছে।

কুণাল জানিয়েছেন, “মিটিং মিছিল চিরকাল হয়ে এসেছে। কিছু কিছু বিশেষ দিন থাকে বিশেষ বিশেষ ঘটনা থাকে সেই ঘটনাস্থলেই স্মরণ হয়ে থাকে। বাংলার নাগরিকরা সচেতন। ঘটনা ঘটেছে এক জায়গায় আর স্মরণ করা হবে আরেক জায়গায় সাধারণভাবে হয় না। কিছু ব্যতিক্রম থাকে। আমরাও যানবাহন এবং পথচারীদের পক্ষে। কিন্তু কিছু কিছু ঘটনা আছে সেগুলি যেখানে হয়েছে সেখানেই স্মরণ করা উচিত। এগুলিকে সরলীকৃত বন্ধনে ফেলা উচিত না।”

–

–

–

–
–
–
