Sunday, May 10, 2026

১৮ সাংসদ পেয়েও বাংলার প্রত্যাশা-পূরণে বিজেপি ব্যর্থ, কণাদ দাশগুপ্তের কলম

Date:

Share post:

লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে বাংলাকে দুধ-মধুর জোয়ারে ভাসিয়ে দেওয়ার গণ্ডা গণ্ডা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি- অমিত শাহরা৷ বলেছিলেন, “কেন্দ্র দিতে চায়, কিন্তু রাজ্য নিতে রাজি নয়”৷ এখানেই না থেমে, মোদিজি আরও একধাপ এগিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘উন্নয়নের স্পিড-ব্রেকার’ পর্যন্ত বলেছিলেন। মোদি-শাহের বাণীতে উৎসাহিত হয়ে রাজ্যজুড়ে ঘুরে ঘুরে বঙ্গ-বিজেপি নেতারা বলেছিলেন, “আমাদের জেতান, বাংলার ভোল পাল্টে দেবে বিজেপি”৷ সে সব শুনে বাংলার মানুষ দু’হাত ভরে ভোট দিয়ে সংসদে ১৮জন সাংসদ পাঠালেন৷

আর তারপর ?

মোদি-সীতারমনের বাজেট দেখে কার্যত মুখে কুলুপ বঙ্গ-বিজেপি’র৷ অসহায় তাঁরা৷ অজুহাত খোঁজার মরিয়া চেষ্টায় ছেলেমানুষের মতো কথা বলে চলেছেন রাজ্যের গেরুয়া নেতারা৷
এবং তাঁরা এখনও আশাবাদী, বাংলার মতদাতারা তাঁদের হাতেই নাকি রাজ্য শাসনের ভার তুলে দেবেন৷

শুধু যে নেতা-সাংসদরাই নীরব, তেমন নয়৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘মুখর’ থাকা বিজেপি সমর্থকদেরও সেভাবে দেখা যাচ্ছে না৷ হাতে গোনা দু-চারজন বাস্তববাদী ভক্ত ইতিমধ্যেই বাজেট নিয়ে যা মন্তব্য করেছেন, তা গেরুয়া- শিবিরের পক্ষে আদৌ সুখকর নয়৷ স্পষ্টই ধরা পড়ছে, মোদিজির প্রতি তাঁদের প্রশ্নাতীত আস্থায় টান পড়ছে৷ সামনে শতাধিক পুরসভার ভোট, একুশে বিধানসভা নির্বাচন৷ সেই সন্ধিক্ষণে রাজ্যের গেরুয়া নেতাদের বেশ অস্বস্তিকর এবং বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে কেন্দ্রীয় বাজেট৷

এই রাজ্য মোদিজির বিজেপিকে বেনজিরভাবে ১৮ আসন দেওয়ায় পর স্বাভাবিকভাবেই আমজনতার প্রত্যাশা আকাশ ছুঁয়েছিলো৷ সেই প্রত্যাশা প্রথম ধাক্কা খায় মন্ত্রিসভা গঠনের সময়৷ একুশের ভোটে রাজ্যের শাসন ক্ষমতা দখল করতে হলে, শুধুই মিছিল- মিটিং নয়, কিছু গঠনমূলক কাজ করেও দেখাতে হবে৷ ২০১১-র আগে দিল্লির ক্ষমতাকে ব্যবহার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একের পর এক প্রকল্প, প্যাকেজে ভরিয়েছিলেন এ রাজ্যকে৷ সেই সলতে পাকানোর ফল তিনি হাতে-নাতে পেয়েছেন৷ ওটাই বঙ্গ-বিজেপির কাছে ‘মডেল’ হতে পারতো৷ কিন্তু হলো কোথায় ? বাংলার হাতে সেভাবে দিল্লির ক্ষমতাই এলোনা৷
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা গঠনের সময় জল্পনা তুঙ্গে ছিলো, এবার একাধিক পূর্ণমন্ত্রী বাংলা পাবে৷ অথচ সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে এমন দু’টি হাফ-মন্ত্রক নিয়ে, যা সামনে রেখে উন্নয়নও হয়না, রাজনীতিও হয়না৷ রাজ্য-বিজেপির কাছে সেটা ছিলো দিল্লির প্রথম ধাক্কা৷ আর রাজনৈতিক দিক থেকে অতীব গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অভূতপূর্ব ‘বঙ্গ-বিদ্বেষী’ বাজেট পেশ করে দিলীপ ঘোষদের এবার দ্বিতীয় ধাক্কাটা দিলেন মোদিজি-শাহজি৷

সন্দেহ নেই, আর পাঁচজনের মতো বাংলার বিজেপি নেতা-সাংসদ- কর্মী- সমর্থকদের ন্যূনতম একটা আশা ছিলো, ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় বাজেটে ‘বঙ্গ-থালি’ জাতীয় কিছু একটা থাকবে, যা সামনে রেখে ভোট প্রচারে তৃণমূলের মোকাবিলা করা যাবে৷ একইসঙ্গে নরেন্দ্র মোদি রাজ্য এসে উন্নয়নের যে অঙ্গীকার করে গিয়েছেন, তার বাস্তবায়ন এবার বাংলার মানুষ দেখবেন৷ সে আশায় হিমশীতল জল ঢেলেছেন টিম মোদি-শাহ- ই৷ কিন্তু স্পর্শকাতর এই বিষয়টি তো এড়িয়ে যাওয়া যায় না, তাই
দলের মুখ রাখতে দিলীপ ঘোষরা নানা যুক্তি দিতে বাধ্য হচ্ছেন৷ ওনারা বলার সময় নিজেরাও বুঝতে পারছেন, বাংলার মানুষ এই যুক্তি ‘খাচ্ছেন না’৷ কিন্তু তাও ওনাদের বলতেই হচ্ছে,”এটা দেশের বাজেট, রাজ্যের তো নয়।”
কিন্তু ঘনিষ্ঠ মহলে সব নেতাই বলছেন, “কেন্দ্র ভোটের মুখে পথে বসিয়ে দিলো৷ কী নিয়ে বাংলার মানুষের সামনে যাবো ? মানুষের প্রশ্নের উত্তরই বা কী দেবো?”

তবুও ভোট বড় বালাই৷ তবুও যেতে হবে মানুষের কাছে৷ তাই কিছু বলতেই হবে৷ বিজেপির রাজ্য সভাপতি সাংসদ দিলীপ ঘোষ বলেছেন, “আমরা বাংলার জন্য নয়, সারা ভারতের জন্য কাজ করি। আয়করে ছাড় বাংলার মানুষ পাবেন না? অতীতে অন্য সরকার যে-রকম প্রাদেশিক বাজেট করত, আমরা করি না। সব-কা-বিকাশ করি।”

যুক্তি দিতে চেষ্টা করেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরি৷ বলেছেন, “এই বাজেট সকলের। মহিলা, যুব, কৃষক, সবার জন্য বরাদ্দ হয়েছে।” সাংসদ সুভাষ সরকার তো জাদুঘরের উন্নতির মধ্যেই বাংলার উন্নয়ন খুঁজে পেয়েছেন৷ তাই বলেছেন, “কলকাতা জাদুঘরের জন্য তো বরাদ্দ হয়েছে।”
তবে সবার সব সাফাইকে ছাপিয়ে গিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু৷ তিনি দিল্লির এই বঞ্চনার জন্যও মুখ্যমন্ত্রীকেই অভিযুক্ত করে বলেছেন, “রাজ্য সরকার তো বাজেটের আগে দিল্লিতে কোনও নির্দিষ্ট প্রস্তাবই পাঠায়নি। পাঠালেই পেয়ে যেতো”৷ সায়ন্তনবাবু সম্ভবত এখনও বুঝেই উঠতে পারেননি, কেন্দ্রের বাজেট কীভাবে হয়৷

কিছু করার নেই, দিল্লির বিজেপি এক ধাক্কায় যে গর্তে বঙ্গ-বিজেপি’কে ফেলেছে, সেই গর্ত থেকে উঠে আসতে রাজ্য- বিজেপির কিছুটা সময় লাগবেই৷ ততদিন এভাবেই বাড়বে হাস্যকর সাফাইয়ের সংখ্যা৷

তবে, বাস্তব এটাই বিজেপি রাজ্য থেকে ১৮ সাংসদ পেয়েও বাংলার প্রত্যাশা-পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।

আরও পড়ুন-এলআইসি নিয়ে কি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে নামবে বিরোধীরা?

Related articles

IPL: রাহানেদের মিশন আরসিবি, জটিল অঙ্কে নাইটদের প্লে-অফের সমীকরণ

দিল্লি থেকে কেকেআরের(KKR) গন্তব্য রায়পুর। রবিবার সকালে রায়পুরে পৌছালো নাইট ব্রিগেড। আগামী ১৩ মে আরসিবির(RCB) বিরুদ্ধে খেলতে নামবে...

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল, সমর্থকদের জন্য বার্তা সিএসকের

আইপিএলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সমর্থকদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিল চেন্নাই সুপার কিংস (Chennai Super Kings)। প্লে-অফের দৌড়ে টিকে থাকতে...

পাকিস্তানে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা, গাড়িবোমা বিস্ফোরণে নিহত ২১ পুলিশকর্মী

পাকিস্তানের (Pakistan) উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ফের জঙ্গি হামলা। আফগানিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন খাইবার পাখতুনখোয়া (Khyber Pakhtunkhwa) প্রদেশের বান্নু জেলায় (In Bannu...

চমকে দিলেন অনন্যা, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রীকে নতুন রূপে প্রকাশ নন্দিতা-শিবপ্রসাদের

বাংলা বিনোদন জগতে উইন্ডোজের (Windows production house) সিনেমা মুক্তির খবর মানেই একটা আলাদা রকমের উন্মাদনা তৈরি হওয়া। আর...