Saturday, May 16, 2026

পূর্ব মেদিনীপুরের চার পুরসভা এলাকায় ফের সম্পূর্ণ লকডাউন, অসামাজিক কাজের বিরুদ্ধে সরব স্থানীয়রা

Date:

Share post:

মহামারির সংক্রমণ বাড়তেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলার চার পুরসভা এলাকায় ফের সম্পূর্ণ লকডাউন কার্যকর করা হয়েছে। কাঁথি-সহ এগরা, পাঁশকুড়া এবং তমলুকে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ এবং প্রশাসন। কিন্তু এই পরিস্থিতিতেও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বিধায়ক পুত্র তথা জেলা যুব তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি সুপ্রকাশ গিরি।
প্রশাসনের নির্দেশ মেনে কাঁথি শহর এলাকায় পুরোপুরি লকডাউন কার্যকর করা হয়েছে । সন্ধ্যার পর থেকেই কাঁথি থানার বিরাট পুলিশ বাহিনী শহরের সর্বত্র অভিযান চালাবে। দারুয়া এবং সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ড এলাকায় স্থানীয়দের জমায়েত করতে নিষেধ করা হয়েছে । সকাল থেকে পুরসভা মাইকে শহর জুড়ে প্রচার চালায়। আগামী এক সপ্তাহ আনাজ, মাছ এবং ওষুধের দোকান বাদে সমস্ত দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন পুর কর্তৃপক্ষ। কাঁথি পুরসভার প্রশাসক বোর্ডের অন্যতম সদস্য সত্যেন্দ্রনাথ জানা বলেন, ‘‘জেলা প্রশাসনের নির্দেশ মেনে শহরে পুনরায় লকডাউন করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহ যাতে সরকারি বিধি সকলে মেনে চলে তার জন্য মাইকের মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।’’
এগরা পুর এলাকায় মাইকে করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে এগরা থানার পুলিশ। রাস্তায় বেরোলে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে । সপ্তাহে তিনদিন— মঙ্গল, শুক্রবার এবং রবিবার ফল, আনাজ, মাছ বাজার ও মুদি দোকান খোলা হবে। সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। আজ বুধবার এগরার রাস্তাঘাটে ভিড় ছিল কমই। দিনভর চলবে পুলিশি টহলদারি। পাঁশকুড়ায় যথেষ্ট কড়া পুলিশ ও প্রশাসন। আগেই স্টেশনের  পাইকারি আনাজ বাজার বন্ধ করা হয়েছিল, এবার পাঁশকুড়া পুরাতন বাজার-সহ শহরের প্রত্যকেটি বাজার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে । পাঁশকুড়া থানার পুলিশ বাহিনী প্রতিটি ওয়ার্ডে টহল দিচ্ছে । স্টেশন বাজারে ঢোকার দুটি মূল রাস্তায় গার্ডরেল দেওয়া হয়েছে। পুরাতন বাজার থেকে প্রতাপপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা পর্যন্ত শহরের মূল রাস্তাটি এ দিন ছিল কার্যত সুনসান।
তমলুকে কঠোর পদক্ষেপ করতে দেখা গিয়েছে পুলিশ এবং প্রশাসনকে। লকডাউনের মধ্যে জেলা জুড়ে অসামাজিক কার্যকলাপ রুখতে কড়া মনোভাব নিয়েছে পুলিশ ও প্রশাসন।
লকডাউনে এগরা- বেলদা রাজ্য সড়কের ষড়রং পেট্রোল পাম্পের সামনে হোটেলের (শ্রীকৃষ্ণ হোটেল) আড়ালে রমরমিয়ে চলছে অবৈধ ও বেআইনি মদের ঠেক ।অভিযোগ, দীর্ঘ বেশ কয়েক বছর ধরে রমরমিয়ে চলছে অবৈধ মদের কারবার। অভিযোগ, আবগারি ও পুলিশকে জানিয়েও কোন লাভ হয়নি। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ষড়রঙ পেট্রোল পাম্পের সামনেই রাত-দিন স্থানীয় থানার পুলিশ গাড়ি ঘিরে তোলা আদায়- সহ জুলুমবাজি চালায়। মুখ্যমন্ত্রীর নিষেধকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলছে তোলা আদায়।
এগরা থানার আসদা (দক্ষিণ) গ্রামে কালিপদ খাটুয়া নামের এক ব্যক্তির দোকানে রাত হলেই চলে অবৈধ মদ ও জুয়ার ঠেক। পুলিশকে বারবার জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা । আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের জন্য তৈরি স্থানীয় বাসিন্দারা ।

Related articles

SIR-এ নাম বাদ পড়লে খারিজ হবে জাতি শংসাপত্র! জারি নির্দেশিকা

রাজ্যের ক্ষমতায় আসার পর একের পর এক আগের প্রশাসনের নিয়ম বদলের পথে বর্তমান রাজ্য সরকার। সেই পথে এবার...

ভোট পরবর্তী হিংসা: ছাড় পেলেন না পদকজয়ী স্বপ্না, পুড়ে ছাই বাড়ি

বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করছেন তাঁদের কেউ সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত থাকলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার পর্যন্ত করা হবে। সেই...

প্রচারে হিংসা ছড়ানোর অভিযোগ: FIR দায়ের অভিষেকের বিরুদ্ধে

বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বাংলায় যেভাবে হিংসায় প্ররোচনার অভিযোগ বারবার উঠেছে, তাতে শাসক ও প্রধান বিরোধী কোনও দলই পিছিয়ে...

SIR-এর ট্রাইবুনাল ধাঁধাঁ: ভোট দেওয়ার পরে নাম বাদ পড়ল ভোটার তালিকা থেকে!

গোটা এসআইআর প্রক্রিয়া বাংলার মানুষের বৈধ ভোটাধিকার বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করার জন্যই হয়েছিল, এমন অভিযোগ বারবার রাজ্যের একাধিক...