Friday, March 13, 2026

রাতারাতি কোটিপতি মালদহের এক দিনমজুর, রয়েছেন আতঙ্কে

Date:

Share post:

৩০ টাকার লটারি কেটে রাতারাতি কোটিপতি মালদহের এক দিনমজুর। এমন ভালো খবরের মাঝেও সম্ভাব্য বিপদের ভয়ে ঘুম উড়েছে রতুয়া-২ ব্লকের আড়াইডাঙা গ্রামের দিনমজুর দানেশ আনসারির। আত্মগোপন করেছেন এক আত্মীয়ের বাড়িতে। গিয়েছেন পুলিশের কাছেও।

কিন্তু কেন?

তাঁর আতঙ্কে থাকার কারণ তিনি নিজেই জানিয়েছেন। দানেশ বলেন, “এত টাকা পেয়ে যেমন আনন্দ পেয়েছি, সঙ্গে আতঙ্কে আছি। অনেক দুষ্ট চক্র এই টাকার জন্য আমাদের ক্ষতি করতে পারে। তাই পুলিশের সাহায্য চেয়েছি।” অজানা বিপদের আতঙ্ক চেপে বসেছে দানেশের মনে। তাই সপরিবার চলে গিয়েছেন এক আত্মীয়ের বাড়িতে। তাঁদের পরামর্শে দ্বারস্থ হয়েছেন পুকুরিয়া থানার পুলিশের কাছে।

প্রতিদিন সকালে কাজের খোঁজে রতুয়া থেকে মালদহ শহরে যান দানেশ। তাঁর রোজগারেই সংসার চলে। দুই মেয়ে এক ছেলে আর স্ত্রী মিলিয়ে পাঁচ জনের পরিবার। টালির চালের বাড়ি। তবে তিন সন্তানের পড়াশোনার খরচ, আর পরিবারে কিছুটা সুদিনের আশায় মাঝে মধ্যে কিনতেন লটারির টিকিট। সম্প্রতি অতিরিক্ত রোজগারের জন্য বাড়ি থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে হবিবপুর ব্লকের পাকুয়াহাটে রাজমিস্ত্রির জোগানদারের কাজ পেয়ে সেখানেই থাকতেন দানেশ। সেখান থেকেই কেটেছিলেন ৩০ টাকার টিকিট। আর তাতেই খুলে গিয়েছে ভাগ্য। তাঁর টিকিটের নম্বরই জিতেছে ১ কোটি টাকার পুরস্কার। দানেশ জানান, ২৬ নভেম্বর মর্নিং লটারির টিকিট কাটেন তিনি। শুক্রবার হবিবপুর থেকে রতুয়ায় বাড়িতে ফেরেন। নিজে জানতেনও না লটারিতে কোটি টাকা পাওয়ার কথা। শনিবার তাঁরই এক বন্ধু এই খবর দেন তাঁকে।

তিনি এই টাকা কী করবেন? উত্তরে দানেশ জানান, “তিন ছেলেমেয়েরই পড়াশোনার জেদ শুরু থেকেই। কিন্তু এই অভাবের সংসারে ওদের পড়াশোনা একেবারে হচ্ছিল না। এবার ওদের উচ্চশিক্ষিত করব।” কিন্তু এখন দানেশ কোটিপতি। তবে কি দিনমজুরি ছেড়ে দেবেন তিনি। এই উত্তরও পাওয়া গিয়েছে তাঁর কাছ থেকে। জানিয়েছেন, “আমি খেটে খাওয়া মানুষ। দিনমজুরির কাজ ছাড়ব না।”

আরও পড়ুন-বিবাহ বার্ষিকীতে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে নজির গড়লেন দম্পতি

spot_img

Related articles

উন্নয়নের খতিয়ান দিতে গিয়েও ‘না’! চেয়েও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেল না তৃণমূল

রাজ্যের আদিবাসী ও জনজাতি উন্নয়নে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘রিপোর্ট কার্ড’ পেশ করতে চেয়েও রাষ্ট্রপতির দেখা পেলেন না তৃণমূল সাংসদেরা।...

বিধানসভা ভোটে নজিরবিহীন নজরদারি: কয়েক গুণ বাড়ছে পর্যবেক্ষক, থাকছে ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে কোমর বাঁধছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের প্রতিটি বুথে স্বচ্ছতা বজায়...

বাংলার জনজাতি উন্নয়নকে উপেক্ষা করে কেন আক্রমণ? রাষ্ট্রপতির কাছেই উত্তর চায় তৃণমূল 

গত তিন দশকের বাম আমলের অচলাবস্থা কাটিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় বাংলার আদিবাসী ও অনগ্রসর জনজাতিদের উন্নয়ন আজ এক...

“বার অ্যাসোসিয়েশন কি মানুষের স্বার্থে মামলা লড়ে?” হাইকোর্টে প্রশ্ন তুলে বিরোধীদের নিশানা কল্যাণের

দীর্ঘ ১১ মাসের আইনি লড়াই ও টানাপড়েন শেষে এসএলএসটি নিয়োগ সংক্রান্ত আদালত অবমাননা মামলার শুনানি শেষ হল কলকাতা...