Friday, January 2, 2026

বিজেপিতে শঙ্কার মেঘ, দলবদলুদের বিরুদ্ধে এককাট্টা হচ্ছেন আদি বিজেপিরা, অভিজিৎ ঘোষের কলম

Date:

Share post:

অভিজিত ঘোষ

শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) কী বিজেপি বিধানসভা ভোটে বিজেপির মুখ করতে চাইছে? মেদিনীপুরের সভা থেকে যেভাবে তাঁকে চপারের সঙ্গী করে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকে কলকাতায় নিয়ে এলেন খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Home Minister Amit Shah), তাতে বিজেপির অন্দরে এই শঙ্কা দানা বাঁধতে শুরু করেছে। বিশেষত বিগত পাঁচ বছর ধরে যারা তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন, দলের ভিত্তি তৈরি করেছেন, নির্বাচনে সাফল্য দিয়েছেন, তাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। আর নেতৃত্ব এতেই অশান্তির কালো মেঘ দেখতে শুরু করেছেন।

বিজেপিতে (BJP) আদি বনাম নব্য বিজেপির লড়াই বহুদিন থেকে শুরু হয়েছে। দলের দিল্লির নেতাদের ধারণা তৈরি হয়েছে, তৃণমূল (TMC) ভেঙে এমএলএ-এমপি নিয়ে এলে বোধহয় নির্বাচনে জেতা সহজ হবে। কিন্তু আরএসএস (RSS) ঘরানার নেতৃত্ব এই ভাবনায় শিলমোহর দিতে রাজি নন। তাঁরা মনে করছেন, দ্রুত ক্ষমতা পেতে এই পথ অবলম্বন করা হচ্ছে, দিল্লির নেতাদের সুরে সুর মেলাতে হচ্ছে, কিন্তু যে প্রশ্ন মানুষ তুলছেন বা তৃণমূল স্তরের কর্মীরা তুলছেন,তার জবাব দিতে হচ্ছে তাঁদেরই। আর সেখানেই সমস্যা বাড়ছে, বিরক্তি বাড়ছে, নব্য বিজেপিদের নিয়ে বাড়াবাড়িতে দলের মধ্যে ‘শার্প ডিভিশন’ তৈরি হচ্ছে।

আদি বিজেপি নেতারা কোন প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছেন? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রাজ্য নেতা বলছেন, তাঁরা যে প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ব্যতিব্যস্ত হচ্ছেন…

১. কেন তৃণমূল বা সিপিএম ( CPM) কংগ্রেসের (Congress) লোক ভাঙিয়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এদের প্রত্যেকেই ব্যর্থ হচ্ছেন। বিজেপির ‘বার্ডেন’ হচ্ছেন। মুকুল রায় থেকে অনুপম হাজরা, সব্যসাচী দত্ত, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মতো তৃণমূলের তারকারা এখানে এসে দলের কোনও উপকারে আসছেন না। বরং তাদের অনুচরদের দলে ঢোকাতে দিল্লির নেতাদের ধরে লবিবাজি হচ্ছে। দল কাজের চাইতে সেই সমস্যা মেটাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে।

২. বিজেপি নেতাদের প্রশ্ন, দলে কী নেতা কম পড়েছে? তাহলে ভাড়া করা ডেকরেটার্সদের মতো এদের দলে আনতে কেন এতো উৎসাহ? দল তাহলে প্রকাশ্যে বলুক, বিজেপি নেতারা পারছেন না। তাই অন্য দলের নেতাদের ডাক দেওয়া হচ্ছে।

৩. তৃণমূল কংগ্রেস ভাঙতে দল এতটা উৎসাহিত যে, কোনও বাছবিচার করা হচ্ছে না। বহু কেলেঙ্কারির নায়কদের ঘটা করে যোগ দেওয়ানো হচ্ছে। এবার তাদের কেলেঙ্কারির জবাব দিতে হচ্ছে দলকে। নেতৃত্বের সাফ কথা, আমরা কেন জবাব দেব? আমাদের কথায় তো আনা হয়নি। দিল্লির নেতারা জবাব দেবেন।

৪. দলবদলুদের বিজেপিতে স্থান দেওয়ায় বিজেপিতে আস্থা রাখা বহু সাধারণ মানুষ এবার বলতে শুরু করেছেন, ওদের কেন ভোট দেব? এরা তো ক্রমশ তৃণমূলের বি-টিম হতে চলেছে।

৫. সবচেয়ে ক্ষুব্ধ তৃণমূলস্তর এবং প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা রাখেন এমন নেতৃত্ব। তাঁরা দল করেছেন, লড়াই করেছেন। স্বভাবতই পুর ভোট বা বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে তাঁরা প্রার্থী হওয়ার আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু যে তৃণমূল নেতারা বিজেপিতে আসছেন, তাঁদের দল অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রার্থী করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ফলে সেখানে দীর্ঘ লড়াইয়ে থাকা বিজেপি নেতারা হতাশ হচ্ছেন দলের প্রতি মোহভঙ্গ হচ্ছে, বঞ্চনার অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। ক্রমশ তাঁরা আস্থা হারাচ্ছেন।

প্রশ্ন এখানেই। ফলে দলের মধ্যে পরিযায়ী নেতাদের বিরুদ্ধে লবি ক্রমশ বাড়ছে, সংগঠিত হচ্ছেন আদি বিজেপিরা। তাদের যৌথ প্রতিরোধ যে আগামী দিনে দলের কাছে বড় শঙ্কার কারণ হবে তা বলাই বাহুল্য। কতবার জিতেন্দ্র তেওয়ারির মতো দলবদলু-সুবিধাবাদীদের আটকানো হবে? এও প্রশ্ন কেউ কেউ তুলেছেন, দল আদৌ বিধানসভায় জিততে চায় তো!

 

spot_img

Related articles

জঙ্গি তকমা! অভিমান নিয়ে অবসর ঘোষণা খোয়াজার

অভিমানকে সঙ্গী করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট(international cricket) থেকে অবসর ঘোষণা করলেন উসমান খোয়াজা (Usman Khawaja)। সিডনি টেস্টের পরই ব্যাগি...

দিলীপ সক্রিয় হতেই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কুরুচিকর পোস্ট! সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ রিঙ্কুর

সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে আসতেই ফের বিজেপি (BJP) নেতা দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর...

দেশে বাড়ছে বার্ড ফ্লু, একাধিক রাজ্যে সর্তকতা জারি

শীত বাড়তেই না বাড়তেই চওড়া হচ্ছে বার্ড ফ্লুর থাবা। দেশের একাধিক রাজ্যে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গত কয়েক...

যোগীরাজ্যে সরকারি হাসপাতালে নার্সিং ছাত্রীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে!

বিজেপি রাজ্য মানেই মহিলারা সেখানে অসুরক্ষিত, ডবল ইঞ্জিন সরকার মানেই নারী নিরাপত্তা তলানিতে- ফের প্রমাণ করলো উত্তরপ্রদেশ (Uttar...