Sunday, March 15, 2026

সূচনার মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই ”কৃষক বন্ধু” প্রকল্পে ৬২ লক্ষ চাষিকে অনুদান মমতার

Date:

Share post:

যেমন কথা তেমন কাজ। কোনও অলীক স্বপ্ন নয়, নয় গালভরা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি। “দুয়ারে ভাষণ” বা “ভাগাড়ে সরকার” নয়, একেবারে প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একের পর এক প্রকল্প। এবং যা শুধু কানে শোনা নয়, চোখেও দেখা যাচ্ছে।

কেন্দ্র যেখানে “কৃষক বিরোধী” আইন পাস করেছে, তখনই নিজেকে আবার কৃষক বন্ধু বলে পরিচয় দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আনুষ্ঠানিক ভাবে সূচনা হওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই রাজ্যের ৬২ লক্ষ কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে গেল ”কৃষক বন্ধু” প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা। প্রসঙ্গত, গত ১৭ জুন এই প্রকল্পের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। খারিফ মরসুমে এই অনুদানের জন্য ১৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল সরকার। এবং কৃষক-হিতৈষী প্রকল্পে কেন্দ্রের মোদি সরকারকে টেক্কা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা-মাটি-মানুষের সরকার।

যে প্রকল্পের বাস্তব রূপদান সম্পন্ন হলো, সেই প্রকল্পের সূচনা পর্বে মুখ্যমন্ত্রী তথ্য-প্রমাণ সহকারে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পে উপভোক্তার সংখ্যা খুব কম। তাছাড়া ২ একর জমি থাকলেই কেবল মাত্র কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতায় পড়বেন কৃষকরা। কেন্দ্রের প্রকল্পে খেতমজুর, বর্গাদার নেই। কিন্তু রাজ্য সরকার সকলকে দেবে। এটা একটা বড় প্রকল্প। কৃষকদের জন্য সারা ভারতে বাংলায় প্রথম এমন প্রকল্প।

বিধানসভা নির্বাচন পর্বে কেন্দ্রের মোদি সরকারের ”পিএম কিষান সম্মান নিধি” প্রকল্প বাংলায় লাগু না হওয়ায় শাসক দল তৃণমূলকেই নিশানা করেছিল বিজেপি। তখনই পাল্টা ”কৃষক বন্ধু”কে তুলে ধরেছিল ঘাসফুল শিবির। যে প্রকল্পে সমস্ত কৃষক বছরে ৫ হাজার টাকা অনুদান পেতেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূল নেতৃত্ব ভোটের আগে চাষিদের কথা দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় ফেরার পর ”কৃষক বন্ধু” প্রকল্পে বার্ষিক অনুদান বাড়িয়ে করা হবে ৬ হাজার টাকা। আর এবার কার্যক্ষেত্রে সেই অনুদান দ্বিগুণ বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বছরে দুই কিস্তিতে সরাসরি কৃষকদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে অনুদান। আর খেতমজুর ও বর্গাদাররা পাবেন বছরে ৪ হাজার।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের ”কিষান সম্মান নিধি” প্রকল্পে বার্ষিক অনুদান ৬ হাজার টাকা। খাতায়-কলমে যেখানে বাংলার মাত্র ৭ লক্ষ কৃষক পেয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা। কিন্তু রাজ্য সরকারের “কৃষক বন্ধু” প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন প্রায় ৬২ লক্ষ চাষি। ফলে অনুদান ও উপভোক্তা, সংখ্যার বিচারে কেন্দ্রের চেয়ে অনেক বেশি কৃষক-হিতৈষী রাজ্যের প্রকল্প।

আরও পড়ুন- সোমবার থেকে বাড়ছে স্টাফ স্পেশাল মেট্রো, জেনে নিন নয়া সময়সূচি

 

spot_img

Related articles

৪ রাজ্য, ১ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নির্বাচন নির্ঘণ্ট: ফলাফল ঘোষণা একই দিনে

একটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলসহ চার রাজ্যে ভোটের নির্ঘন্ট ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। বাংলায় এবার দুই দফায় (two phases)...

১৭০ দিন পরে ঘরে ফিরলেন সোনম, আবেগঘন পোস্ট স্ত্রী গীতাঞ্জলির

শেষ পর্যন্ত লাদাখের পরিবেশ আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুককে (Sonam Wangchuk) জেলমুক্ত করতে বাধ্য হয়েছে অমিত শাহর দফতর। প্রমাণিত হয়েছে...

পুলিশের উর্দি গায়ে রাজনীতিক কুণাল! ‘ফাঁদ’ পাততে তৈরি নেতা-অভিনেতা

সাংবাদিকতার পাশাপাশি তুখোড় রাজনীতিবিদ হিসেবে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষকে (Kunal Ghosh) সকলেই চেনেন। সম্প্রতি তাঁকে অতিপরিচিত...

পুরোহিত, মুয়াজ্জিনদের পাশে রাজ্য সরকার: ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

আরও এক জনহিতৈষী সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। যুবসাথী প্রকল্প চালু এবং লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা বৃদ্ধির পর...